মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে চলমান বিচারাধীন মামলাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থানান্তর করা হবে।
ঢাকা জেলার জন্য মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ঢাকা গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে পল্লবী, কাফরুল, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-১ এবং কলাবাগান, ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়া মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-৩ এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরেও এক বা একাধিক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে অন্যূন পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে নতুন গঠিত ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে।
মামলাগুলো যে পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই নতুন ট্রাইব্যুনালে সেগুলোর বিচারকাজ পরিচালিত হবে। অর্থাৎ নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু না করে মামলার বর্তমান অবস্থান থেকেই পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৩টি মাদক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগর এলাকাতেই রয়েছে ২১ হাজার ৯২০টি মামলা।
বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মামলাজট কমানোর লক্ষ্যেই বিশেষায়িত এসব ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। নতুন ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলা স্থানান্তরের পর নির্ধারিত এখতিয়ার অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সরকারের এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা বিপুলসংখ্যক মাদক মামলার নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে এবং সাধারণ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


