লাক্স তারকা আফসান আরা বিন্দু একসময় টেলিভিশন পর্দার ব্যস্ত অভিনেত্রী ছিলেন। গেল ৭-৮ বছর ধরে তাকে কালেভদ্রে অভিনয়ে দেখা যায়। সবশেষ ২০২৩ সালে ‘উনিশ২০’ ওয়েব ফিল্মে তিনি ফিরেছিলেন আরিফিন শুভর সঙ্গে, কিন্তু এরপর তার নিয়মিত কাজ চোখে পড়েনি। এ সময়ে তিনি বিয়ে করে সংসার করছেন বলে শোনা যাচ্ছিল। একইসঙ্গে গুঞ্জন ছিল তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে এবার বিন্দু নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুললেন। নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আর বিবাহিত নন এবং তার দাম্পত্য জীবন শেষ হয়েছে।
২০১৪ সালে ব্যবসায়ী আসিফ সালাহউদ্দিন মালিককে বিয়ে করেন বিন্দু। বিয়ের পর তিনি শোবিজ থেকে সরে আসেন। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফ্রেম উইথ আরআরকে’-তে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট করে বললেন, ২০২২ সালে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। বিন্দু জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল থেকেই তারা আলাদা তবুও আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ২০২২ সালেই হয়েছে।
তবে কি কারণে, কেন বিচ্ছেদ হয়েছে বিন্দু তার কারণ বিশদে আলোচনা করেননি। তিনি বলেছেন, জটিলতা থাকলেও তা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে আরেকজনের ব্যক্তিগত জীবন অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ পায় না।
একই পডকাস্টে আরিফিন শুভর সঙ্গে সম্পর্ক কথা বলেন বিন্দু। শুভর সঙ্গে একসময় প্রচুর জনপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন। এ নিয়ে বলেন, পর্দায় শুভর সঙ্গে আমার রসায়ন অসম্ভব ভালো এটা সত্যি। কারণ আমরা একে অপরকে খুব ভালো বুঝতাম।
এরপরই উপস্থাপক রুম্মান রশিদ খান শুভর সঙ্গে প্রেম আর বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কিছুটা থমকে যান বিন্দু। হাসতে হাসতে বলেন, ছোট ছিলাম, বাচ্চা ছিলাম। এটা বিপজ্জনক প্রশ্ন! কিছুক্ষণ থেমে বিন্দু আরও যোগ বলেন, কেন সম্পর্কটা টেকেনি এর উত্তর আমার কাছেও নেই।
তিনি বলেন, দুটো মানুষের পথচলা যে একই জায়গায় শেষ হতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। আমরা তখন কাজটাকেই পাগলের মতো ভালোবাসতাম। কাজের বাইরে অত কিছু ভাবার সুযোগই ছিল না।
ভবিষ্যতে আবার আরিফিন শুভর সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নে বিন্দু স্পষ্ট করে জানান, সুযোগ পেলে তিনি অবশ্যই আগ্রহী। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আবারও তাদের জুটি দর্শকের সামনে আনতে চান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে শোবিজে পথচলা শুরু করেন বিন্দু। শুরুতেই তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি।
এরপর ‘পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’, ‘জাগো’, ‘এই তো প্রেম’–এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। বিশেষ করে ‘এই তো প্রেম’ সিনেমাতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। পাশাপাশি ছোট পর্দার নাটকেও নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি।


