ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ছবিটি নিয়ে একের পর এক বিতর্ক চলছেই। শাকিব খান অভিনীত ছবিটি ‘ডিসিপি’ প্রিন্ট সম্পর্কিত সমস্যার কারণে স্টার সিনেপ্লেক্সে চলেনি প্রথম ৪ দিন। আবার প্রথম দিন ৬০টির অধিক সিনেমা হলে সার্ভার সমস্যার কারণে ঈদের দিন ছবিটির শো চালাতে পারেনি। ৩১ মার্চ হল মালিকরা ছবির পরিবেশকের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ছবিটির অন্যতম চিত্রনাট্যকার মেজবাহউদ্দিন সুমন। পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যেখানে উঠে এসেছে নির্মাণ প্রক্রিয়ার নানা অসংগতি, বিভ্রান্তি ও পেশাদারিত্বের ঘাটতির কথা।
সুমনের দাবি, সিনেমাটির গল্প প্রথমে তিনি শোনান ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘ক্লাইম্যাক্সের দিকে আমি একটু থেমে গিয়েছিলাম, উনি এক্সাইটমেন্টে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেন, তারপর। পুরো গল্প শুনে উনি পাঁচ মিনিট চুপ ছিলেন।’ এমনকি তিন দিন পর ডেকে নিয়ে শাকিব খান নিজেই ‘পুরো সিন বাই সিন কিভাবে অভিনয় করবেন দেখাচ্ছিলেন’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে পরিচালকের প্রসঙ্গে এসে সুর বদলে যায়। সুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরু থেকেই পরিচালক ছিলেন ‘ভীষণ কনফিউজড’ এবং গল্প নিয়ে কোনো পরিষ্কার ভিশন ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, ‘একদিন বলে হিরো সবসময় পিয়ানো বাজাবে, তার পিয়ানো থেকে গুলি বের হবে। আরেকদিন বলে আফগানী পাঠানের কোলে মুরগী থাকবে’—যা শুনে তিনি ও সহকর্মীরা বিব্রত হন।
চিত্রনাট্য উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বারবার বাধার কথা উল্লেখ করেছেন সুমন। তার ভাষায়, ‘ড্রাফটের পর ড্রাফট স্ক্রিপ্ট করে যাচ্ছি, কিন্তু তার কোনো খোঁজ নাই।’ এমনকি এক পর্যায়ে পরিচালক নাকি বলেন, ‘স্ক্রিপ্ট পড়তে পারি না, মাথা ধরে।’ এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পুরা স্ক্রিপ্ট পড়ে লাইন বাই লাইন ফুটনোট সে দিতে পারে নাই।’
আরও অভিযোগ করে সুমন জানান, একাধিক লেখককে যুক্ত করে বারবার স্ক্রিপ্ট পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। এতে করে পুরো টিমের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, পুরোনো ড্রাফট দিয়েই নতুনদের কাজ করানো হচ্ছিল, যা প্রমাণ করে পরিচালক নিজেই সর্বশেষ স্ক্রিপ্ট সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
প্রযোজক শিরীন সুলতানার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সুমন। তার ভাষায়, ‘উনার বারো কোটি টাক জমি বেচে, ধার করে এনেছেন, এখন ৩ কোটি টাকাও পেতে কষ্ট হচ্ছে।‘ এ পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি পরিচালকের সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেন।
সুমনের এসব অভিযোগের জবাবে কী বলবেন আবু হায়াত মাহমুদ। টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘ওনার অভিযোগের ব্যাপারে খুব বেশি বলার নেই। এখন আমরাই সমস্যায় পড়েছি দেখে উনি এমনটা বলছেন, না হলে হয়ত এসব বলতেন না।’
‘চিত্রনাট্য দেরিতে পাওয়ার কারণে শুটিং দেরি হয়েছে। তাছাড়া একটা স্ক্রিপ্ট যখন লেখা হয় তা হুবহু শুট করতে গেলে তো ৩-৪ ঘণ্টার ছবি হয়ে যায়। যা বাস্তবে করা সম্ভব না। যার কারণে অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য বাদ দেওয়া হয়েছে চিত্রনাট্যকে আরও সুন্দর করার জন্য।’
প্রিন্সের বিতর্ক এখানেই থামেনি। ৩০ মার্চ ছবির প্রিমিয়ার শো শেষে সংবাদ সম্মেলনে শাকিব খান তার দুই নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর শরীরে বাজেভাবে স্পর্শের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে শাকিব বা ফারিণ কেউই মন্তব্য করেননি। জ্যোতির্ময়ী ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকেও বলেছেন, ‘নো কমেন্টস’।


