কক্সবাজারে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বাসা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ১৩ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শরণার্থী ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলা দায়ের করেন।
রোববার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা এলাকায় ক্যাম্প ১১ ও ১২ সংলগ্ন কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
রোহিঙ্গা শিবিরের বাইরে তাদের ভাড়া দেওয়ার নিয়ম না থাকায় বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে এসব শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে বাড়িভাড়া দিতে হলে ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পরিচয় নিশ্চিতের তথ্য প্রয়োজন, বাড়িভাড়ার চুক্তিতে স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হয়। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে এসব কিছুই মানা হয়নি।
তাই অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধে করা পৃথক ১৩টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এর মধ্যে পালংখালীর শাহিনা আক্তারকে ১০ হাজার, সাজু বেগমকে ১০ হাজার, মরাগাছতলার মো. হারুনকে ৭ হাজার, সেলিনা আক্তারকে ৫ হাজার, মো. হামিদুল হককে ৫ হাজার, মো. সৈয়দ আলমকে ২০ হাজার, বালুখালীর মো. নুর হোসেনকে ৩০ হাজার, শিয়ালিপাড়ার আনোয়ারুল আলমকে ২০ হাজার ও ময়নার ঘোনা এলাকার নুরুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি।
একই সঙ্গে আটক মালিকদের মধ্যে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে পালংখালীর বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ও পুঠিবনিয়ার বাসিন্দা মো. আজিজুর রহমানকে সাতদিনের সশ্রম কারাদণ্ড এবং রহমতের বিল এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল রশিদকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
যৌথ বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয়দের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করা ৬২২ রোহিঙ্গার মধ্যে ২১১ জন পুরুষ, ১৯৬ জন নারী ও ২০০ শিশু রয়েছে। এসব রোহিঙ্গা উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে থাকছিলেন।
আটক রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে নিজ নিজ নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এপিবিএন পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে।
ভবিষ্যতেও ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


