আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের চমক দেখা দিয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হওয়া এই আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী কারাবন্দি কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এতে কারাগারে থেকেও তার নির্বাচন করতে আর বাধা রইল না।
মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং তাকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসার কাবির মিয়াকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে তার আপিল খারিজ করে দেয় ইসি।
এরপর কাবির মিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানিকালে তার পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঋণসংক্রান্ত জটিলতা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী কাবির মিয়া ঋণখেলাপি নন।’ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার যুক্তি গ্রহণ করে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তার একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বরইতলা–মুকসুদপুর–কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে লড়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাবির মিয়ার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের লড়াই জমে উঠবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হিসেবে কাবির মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে বিমানবন্দর সিভিল অ্যাভিয়েশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।


