ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে বুধবারের পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় শান্ত হয়ে এসেছে। মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ অন্যান্য মিশনের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর বুধবার প্রতিবাদ কর্মসূচির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার কেবল পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কয়েকটি স্থলবন্দরে বিচ্ছিন্ন কিছু বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
ভারতে কর্মরত বাংলাদেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি স্বাভাবিক ছিল।
তারা আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে অবস্থার আরও উন্নতি হবে। স্থলবন্দরের বিক্ষোভ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। বিক্ষোভকারীরা মূলত রাস্তায় অবস্থান নিলেও পণ্য পরিবহনে কোনো বাধা দেয়নি।
গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বাংলাদেশের একটি অংশ অভিযোগ তোলার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
অন্যদিকে, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তির নিহতের ঘটনায় ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
ভারত-বাংলাদেশের এই চলমান পরিস্থিতিতে নজর রাখছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো। এরই মধ্যে রাশিয়া দুই দেশকেই উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রতিবেদনে ভারতকে এমন কোনো মন্তব্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশে নির্বাচনী হস্তক্ষেপ হিসেবে মনে হতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেও নির্বাচনের ফায়দা নিতে ভারতবিরোধী বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
চীনের ভূমিকা
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না, বরং এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ ‘টাইমস’কে বলেন, ‘অস্থিরতা সবসময় অনিশ্চয়তা তৈরি করে, যা কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, কোনো দেশই এই অনিশ্চয়তা থেকে লাভবান হতে পারে না।’
বাংলাদেশ-ভারতের এই টানাপোড়েনে চীনের অবস্থান সম্পর্কে মুন্সী ফয়েজ বলেন, বেইজিং বাংলাদেশ ও ভারত–উভয় দেশের সঙ্গেই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেয়।
তার মতে, চীন নিজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য ভারতের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক চায়। আবার একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
বেইজিং এই দুই দেশের টানাপোড়েনের কোনো সুযোগ নেবে কি না–এমন ধারণা নাকচ করে দিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি দেখতে চায়। কারণ, আঞ্চলিক শান্তি শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই সুফল বয়ে আনে।


