বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সংস্কারে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
বুধবার ঢাকার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এক বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এ আশ্বাস দেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চান। তিনি কার্যকর সংসদ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনসহ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, তবে তা এমনভাবে করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।’
তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আগের সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।
সম্প্রতি গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এর মোকাবিলা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রদূতও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদে জানান, দেশে উগ্রবাদ সীমিত আকারে থাকতে পারে, তবে তা কখনোই সন্ত্রাসবাদের রূপ নেয়নি। সন্ত্রাস দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।
এ সময় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার অপরিহার্য উল্লেখ করেন তিনি। এতে একমত পোষণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, যেকোনো দেশের উন্নয়নে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্যতম প্রধান নিয়ামক। এ সময় পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সংস্কার কার্যক্রমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্রতারণা দমন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ আলাদা বৈঠক করেন।


