খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় অবরোধের ভেতরে সহিংসতার গুলিতে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে। নিহত সকলেই ভিন্ন ভাষাভাষী মারমা জনগোষ্ঠীর, তারা গুইমারার বাসিন্দা। তারা হলেন সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের দেবলছড়ি চেয়ারম্যান পাড়ার আথুই মারমা (২১), হাফছড়ি ইউনিয়নের সাং চেং গুলিপাড়ার আথ্রাউ মারমা (২২) এবং রামসু বাজার বটতলার তৈইচিং মারমা (২০)।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রোববার গুইমারা উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, বাঙালি বসতি স্থাপনকারী ‘সেটেলার’ এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় গুলিবিনিময়ে অন্তত তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন এবং ১৩ সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুলির ঘটনায় তিনজন নিহত হন এবং নিহতদের লাশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে গুইমারার রামসু বাজারে দুপুর ১টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সহিংসতার পর, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ফেসবুক পোস্টে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে ‘অনির্দিষ্টকালের’ অবরোধ ডেকেছে। স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে এর আগে শনিবার অবরোধ চলছিল। সে দিনও কয়েক দফা সংঘাত হয়।
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ছাবের আহম্মেদ জানান, রোববার ও সোমবার পর্যন্ত ১৪ জন আহতকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন চিকিৎসাধীন এবং একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ টহলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, সোমবার বেলা ১২টা থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কের অবরোধ শিথিল করা হয়েছে, তবে পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়িতে এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শয়ন শীল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ওই ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধের সূত্রপাত।


