পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি দল রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকার।
গ্রেপ্তাররা হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার রাতইল গ্রামের মো. শাফায়েত হোসেন শেখ (৫৫) ও দিঘলিয়া থানার পারচন্দ্র গ্রামের এনামুল হক আকবর (৬৩)। এদের মধ্যে শাফায়েত নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পরিচয় দিয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানায়, চক্রটি পুলিশের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরে প্রভাবশালী বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিচয় দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিত। চাকরি নিশ্চিত করার প্রলোভনে তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করত।
চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি অগ্রিম টাকা নেওয়ার আগে নিজেদের ব্যাংক চেক জামানত হিসেবে দিত। একইভাবে এক প্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা যোগাযোগ করে। প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য শাফায়েত নিজের স্বাক্ষর করা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার একটি চেক দেন। চাকরির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে প্রার্থীকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য আনা হয়।
আগের তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি চৌকস দল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল। প্রতারকচক্রটি প্রার্থীকে নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য এলে সিআইডি সদস্যরা তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত চেকটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মো. শাফায়েত হোসেন শেখের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা ও খুনের ঘটনায় মোট ৩টি মামলা রয়েছে।
শাফায়েতের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দাবির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি। আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


