লাইভ শেষ/১৭:৩০
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে ঐতিহাসিক জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, একথা কথা কেউ ভাবতে পারেনি। আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি এতো চমৎকারভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সৌহার্দ্যের সাথে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। জাতির বিভিন্ন স্তুরের মানুষ এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছে, তর্ক-বিতর্ক করেছে। .. জুলাই সনদ ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।’
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পর দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘এই দিনটি একটি মহান দিন। এর কথা চিন্তা করলেই গা শিউরে ওঠে। এই দিনটি শুধু জাতির জন্য নয়, সারা পৃথিবীর জন্য একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। এটা পাঠ্যপুস্তকে থাকবে, শ্রেণিকক্ষে আলোচনা হবে, রাজনীতিবিদদের মধ্যে বারবার স্মরণ করা হবে।’

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিবিদদের ধন্যবাদ জানাই–তারা দেশকে বহু উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আজ আমরা গণঅভ্যুত্থানের নায়কদের স্মরণ করি, যাদের জন্য আজ আমরা এখানে উপস্থিত। যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন–তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা চিরকাল থাকবে। তাদের জন্যই আজকের দিনটি সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোনো কথাবার্তা সব পাল্টে ফেলে নতুন কথাবার্তা নিয়ে এসেছি। পরিবর্তনের ভেতরে এসেছে নতুন চিন্তা, নতুন মূল্যবোধ। এই পরিবর্তন এখন আমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা সেই পথেই অগ্রসর হব। আজ আমাদের নবজন্ম। জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম। এখন আমাদের দায়িত্ব এই পথটিকে সঠিকভাবে অনুসরণ করা।’
তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘যে তরুণরা এটা সম্ভব করেছে, তারাই আবার দেশকে নতুন করে গড়বে। তারাই এই চিন্তাধারার আলোকে নেতৃত্ব দেবে, গড়বে ন্যায়ের, সমতার ও মানবিকতার বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘আজ যে সুর বাজালাম, সেই সুর নিয়ে নির্বাচনের দিকে যাব, ঐক্যের সুর। ঐক্যের সুর নিয়ে নির্বাচনের দিকে যাব আমরা।’
এর আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের জুলাই যোদ্ধাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর অঙ্গীকারনামায় জরুরি সংশোধন আনা হয়েছে।’

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে অধ্যাপক রীয়াজ জানান, আলোচনা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ ৫নং দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটনো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
১৬:১২
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানস্থলে বিকাল ৫টার দিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

১৬: ৪৯
বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় অনুষ্ঠানের । এ সময় অনুষ্ঠানের অতিথি ও দর্শকরা সকলে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতেতর শ্রদ্ধা জানান।
পরে একটি চৌকশ ব্যান্ড দল কুচকাওয়াজ করে।
শুক্রবার বিকাল ৪টা ৩২মিনিটে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ।

মঞ্চে নেতাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন প্রমুখ উপস্থিত আছেন।
অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এবং সিপিবি-বাসদসহ চারটি বামপন্থী দল।
—
লাইভ শুরু/ ১৬: ৩৫
সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সনদ সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। হালকা বৃষ্টির ভেতরেই উপস্থিতি হয়েছেন অতিথিরা।
জুলাই সনদ অনুষ্ঠানে বৃষ্টির বাগড়া
পূর্ব নির্ধারিত সময়ে, বিকাল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃষ্টিতে অনুষ্ঠান শুরুতে কিছু সময় দেরি হয়।
বিকাল পৌনে চারটার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য আমরা প্রস্তুত। আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় অনুষ্ঠান শুরুর সময় কয়েক মিনিট পিছিয়ে যেতে পারে, তবে সার্বিক প্রস্তুতি ঠিকঠাক রয়েছে। অতিথিরা ইতোমধ্যে ভেন্যুতে আসা শুরু করেছেন এবং আমরা ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের সূচনা দেখার অপেক্ষায় আছি।’
সংঘর্ষে জুলাই যোদ্ধারা
বেলা দেড়টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ‘রণক্ষেত্র’ সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ‘জুলাই যোদ্ধারা’। তাদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ, ছোড়ে সাউন্ড গ্রেনেডও।

জবাবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। এসময় বেশ কয়েকজন আহন হন, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় সনদ সই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা তাঁবুসহ বিভিন্ন সরঞ্জামে। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, লাঠিচার্জ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুরো এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।
পরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার মিরপুর সড়কে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ একাংশ বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। এতে সেখানে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার পর তারা ধানমন্ডি-২৭ নম্বর এলাকার ‘রাপা প্লাজার’ সামনে জড়ো হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’।
যা আছে সনদে
বুধবার সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা একটি জরুরি সভা আহ্বান করেন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ সারা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। ৪০ পৃষ্ঠার এই সনদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের রূপরেখা দেওয়া হয়। এতে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমল, ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরা হয়।
এতে পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবলীর পরম্পরা তুলে ধরে গত ১৬ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়।
এই সনদে একটি সাত দফা প্রতিশ্রুতি রয়েছে; এই সনদ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সই করার মাধ্যমে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিদ্রোহে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।


