কানাডার এডমন্টনে আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন ভবন মিলনায়তনে এক আনন্দঘন পরিবেশে ২০২৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রাপ্ত প্রখ্যাত গবেষক জহুরুল করিমকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও কৃষিবিদদের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে করিমের অসামান্য অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষিবিদ শামীম রিজওয়ান স্বাগত বক্তব্য দেন এবং কৃষিবিদ হোসনে আরা বেগম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে জহুরুল করিমের দীর্ঘ কর্মজীবনের ওপর একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন।
আবু তাহেরের কোরআন তেলাওয়াতের পর বাংলাদেশ-কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অব এডমন্টনের সভাপতি মো. মাইনুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে মূল আলোচনা পর্ব শুরু হয়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জহুরুল করিমের সরাসরি ছাত্র এবং বর্তমানে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ওয়েস্ট কোস্ট ব্লুবেরি ফার্মসের পরিচালক শাহেদুর রহমান শাহীন তার জীবনের সাফল্যের পেছনে প্রিয় শিক্ষকের দিকনির্দেশনার কথা তুলে ধরেন এবং ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন।
একইভাবে ম্যাকওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল ইসলাম তার (জহুরুল করিম) গবেষণা ও সততার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, বাংলাদেশ কৃষিতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে, তার মূলে রয়েছে জহুরুল করিমের বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা।
ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার হাবিবুর রহমান এবং রিজিওনাল মিউনিসিপালিটি অব উড বাফেলোর কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ পুনম জহুরুল করিমের পাণ্ডিত্য ও কর্মনিষ্ঠার ওপর আলোকপাত করেন।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে জহুরুল করিম বলেন, কাজের প্রতি সততা ও নিষ্ঠা বজায় রাখায় বিগত কোনো সরকারই তার গবেষণার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
তিনি জানান, অচিরেই বাংলাদেশে কানাডার আদলে ক্যানোলা চাষ শুরু হবে এবং তার গবেষণার ফলে এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী সময়েও ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। তিনি প্রবাসে অবস্থানরত কৃষিবিদদের দেশের তরে অবদান রাখার এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ খালেদ বারি নোবেল, জামিল আজাদ পলাশসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও জহুরুল করিম সপরিবারে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষিবিদ রওশন বেগম শিল্পী ও তৌহিদ পারভেজ।


