রংপুরের হারাগাছে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি পরিস্থিতি পরিদর্শনে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনে বেসরকারীভাবে বিজয়ী সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ, বিএনপি সরকার গঠন করবে এই ঘোষণার পরেই নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকাল থেকে নগরীর হারাগাছের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। সারাই আমবাগান এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এমআই সুমনের বাড়িঘরে হামলায় চালিয়ে ভাংচুর করে এবং স্বর্ণ ও টাকা লুট করে নিয়ে যায়। হারাগাছের যুগ্ম সমন্বয়কারী রুবায়েতকে মায়া বাজার এলাকায় মারধোর করে এবং তার বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর চালায়।
হারাগাছের মোল্লাটারিতে হারাগাছ থানা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী ইয়াসির আরাফাতের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া হামলা ও লুটপাটের শিকার হয় স্থানীয় জামায়াত কর্মী মমিননের বাড়ি।
এসব ঘটনার খবর পেয়ে সারাই আমবাগান এলাকায় পুলিশ গেলে পুলিশের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়।
হারাগাছ থানার ওসি বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি ভাংচুরকৃত বাড়িঘরগুলো পরিদর্শনে যাই। কিন্তু সেখানেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে আমরা থানায় চলে এসে আবার অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এখন পরিস্থিতি শান্ত। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি।’
এসব ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টায় রংপুর শহরের ৩৬ জুলাই চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন আখতার হোসেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দেখেই আজ বিএনপির নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আপনারা অবাক হয়ে দেখবেন, পাওটানায় বিএনপির একজন কর্মী আমাদের একজন নারীকে, আমাদের একজন নারীকে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছে।’
পরাজিত বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনেন আখতার।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে আখতার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তারা এখানে কোনো ফোর্স ডেপ্লয় করে নাই। এখনো পর্যন্ত তারা কোনো মানুষকে উদ্ধার করতে যায় নাই। এই মানুষগুলো হারাগাছের মানুষ, তাদেরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। একটা সেখানে জমিদারতন্ত্র চলছে, সেখানে এক মাফিয়াগিরি চলছে। কোনো মানুষ তাদের বাইরে গিয়ে কোন কথা বলতে পারে না।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীতার করেছেন এমদাদুল হক ভরসা। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ভাংচুর, লুটপাটের অনুমতি দেইনি। তারা বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ায় জনসাধারণ এসব করছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশে ভোট পুনরায় গণনার আবেদন করেছি।’


