নিরাপত্তা শঙ্কায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে আগের অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার আইসিসির প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পরেও বদলায়নি সিদ্ধান্ত। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতই এই ব্যাপারে পর্যালোচনা করে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আইসিসি।
মূলত আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের সঙ্গেই বিসিবির দেড় ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন ও প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন।
আইসিসির ডেলিগেট দলের হয়ে সশরীরে সভায় যোগ দেয়ার কথা ছিল আইসিসির ইভেন্ট ও কর্পোরেট কমিউনিকেশনের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনার। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তার আসা হয়নি, কিন্তু ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন এই কর্মকর্তা। জানা গেছে, তার বদলে রবিবার এই ডেলিগেট দলে যোগ দিতে পারেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা।
শনিবারের এই বৈঠকে আইসিসিকে লজিস্টিকস, প্রোডাকশন ও যাবতীয় সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গ্রুপ বদলের প্রস্তাবও দিয়েছে বিসিবি। তাদের চাওয়া ‘বি’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ডের সাথে জায়গা বদলে সব ম্যাচ শ্রীলংকায় সরিয়ে নেয়া। আয়ারল্যান্ডের সকল ম্যাচই শ্রীলংকায়। কলম্বোতে শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া ও ওমান তাদের প্রতিপক্ষ, কান্ডিতে খেলবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত গ্রুপ বদল হলে এই সূচিতে আয়ারল্যান্ডের জায়গায় খেলবে বাংলাদেশ। আর ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের বদলে কলকাতায় তিন ম্যাচ ও মুম্বাইয়ে এক ম্যাচ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, ভারতে সফর নিয়ে ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্য দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানও তারা আইসিসিকে অবহিত করেছেন। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত আরো আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে, বিসিবির বিজ্ঞপ্তি থেকে।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে বিসিবি। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, দুই সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন সেই ভার্চুয়াল সভায় আইসিসির সামনে ভারতের দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণগুলো তুলে ধরেন। এরপরই বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি।
গত ৩ জানুয়ারি ভারতের উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তা ইস্যুকে কারণ দেখিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে সরানোর নির্দেশনা দেয় বিসিসিআই। এরপরই দুই দফায় ইমেইল পাঠিয়ে ভারতের বাইরে ভেন্যু সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানায় বিসিবি।


