পাবনায় ছেলের সামনে হোসেন আলী ওরফে হোসেন ঠাকুরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এজাহারে নাম থাকা প্রধান আসামিরা এখনও অধরা।
বুধবার ভোররাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলো পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের মতিয়ার রহমান (৪০), পুষ্পপাড়া গ্রামের শরীফ প্রামানিক (৩৫) ও জাফরাবাদ গ্রামের মনিরুল ইসলাম (২৮)।
এর আগে মঙ্গলবার নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন।
বুধবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, ভোরে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি অবিস্ফোরিত গুলি ও একটি গুলির খোসা জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’ ও ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা’ এই দুই বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীটিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। তারা হলো জাফরাবাদ পুরাতনপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম ওরফে তোতা (৩৫) ও শাহীন (২৮)। গ্রেপ্তার তিনজন এজাহারে নাম থাকা আসামি নন।
পুলিশ সুপার জানান, মামলায় অজ্ঞাত আসামি আছেন আট থেকে ১০ জন। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় জড়িত সন্দেহে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকার জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় ছেলে রোহানকে (১২) রাখতে গিয়েছিলেন হোসেন আলী (৫৫)। মাদ্রাসার গেটে পৌঁছামাত্র ছেলের সামনেই তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।


