সরকার দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়ে পিরোজপুরের পঙ্গু, দুঃস্থ ও বেকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ করা নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী খেয়াঘাট দখলের চেষ্টা করছে স্থানীয় কয়েক যুবক। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী সাহেদুল ইসলাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী খেয়াঘাট ব্যবহার করে প্রতিদিন নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কিছু দিন আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত শ্রীরামকাঠী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব ফাহিম, স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম এবং তার ভাই ছাত্রদল কর্মী শফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা মাসুম এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন ও আরিফসহ ২০ থেকে ২৫ জন জোরপূর্বক খেয়াঘাটের দখল নিয়ে টোল সংগ্রহ শুরু করে। এরা সকলেই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খানের অনুসারী।
সাহেদুল আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও অভিযুক্তরা ঘাটটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তার কাছে চাঁদাও দাবি করেছিল। তবে তিনি বিষয়টি নাজিরপুর থানায় জানানোর পর, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তদের ডেকে সতর্ক করেছেন, যাতে তারা আর ঘাটের টোল আদায় করতে না যায়।
সাহেদুল বিগত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ঘাটটি থেকে টোল আদায়কারী হিসেবে কাজ করছে। এ বছরও সাহেদুলকে ঘাটটি থেকে টোল আদায়ের জন্য নিয়োগ দেয় পিরোজপুর পঙ্গু, দুঃস্থ ও বেকার মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি। এরপর থেকে ঘাট থেকে নিয়মিত টোল সংগ্রহ করছেন তিনি।
গুয়ারেখা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি কিংবা দলখবাণিজ্য করলে তা দলের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর হবে।
খেয়াঘাট দখল চেষ্টার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পিরোজপুর পঙ্গু, দুঃস্থ ও বেকার মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতি লিমিটেড- এর সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘাট থেকে লোক নিয়োগ দিয়ে তারা নিয়মিত টোল আদায় করছে। তবে নতুন সরকার আসার পর দলীয় পরিচয়ে কিছু দুষ্কৃতিকারীরা দুই বার ঘাট দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তবে এরপরও তাদের দখলচেষ্টা থেমে নেই। এখনো তারা ঘাটটি দখলের পায়তারা করছে।’ বর্তমানে ঘাট থেকে টোল আদায় করার বিষয়ে তারা শঙ্কিত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাহিমসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান জানান, অভিযুক্তরা তার কাছে গিয়েছিল। তবে ঘাটটির মালিকানা জেলা পরিষদের হওয়ায় তিনি তাদেরকে সেখানকার প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
এ ছাড়া অভিযুক্তদের থানায় ডেকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। ভবিষ্যতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


