সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
২০১৮ সালে ছিনতাইকারীর হাতে খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে গেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে তার মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে।
এরপর ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জীবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা জারির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, রুলের শুনানি শেষে আদালত রুল আংশিকভাবে যথাযথ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিককে দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা-সংক্রান্ত সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছে। আদালত একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইনের সংশোধন করে সব ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিধি প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছে।
মনজিল মোরসেদ জানান, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসারে বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ঘটনা বা ছিনতাইয়ে কেউ আহত হলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয় না। অথচ এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরকারের কাছ থেকে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্যই লাইসেন্স নিয়ে থাকে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম, সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।


