জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাম্প্রতিক হামলার বিচার, প্রক্টরের অপসারণ, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীনের কাছে স্মারকলিপি দেন জকসুর নেতারা। এদিন ট্রেজারার অধ্যাপক সাবিনা শরমীনের কাছে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করেন তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, সাত একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর অস্থায়ী আবাসন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক মো. নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নিয়ে বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, প্রক্টর আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আন্দোলন প্রত্যাহার না করলে সিন ক্রিয়েট করে তোমাদের উঠিয়ে দেওয়া হবে।’ এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালান। হামলায় নারী শিক্ষার্থী, জকসু প্রতিনিধি, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত হন। দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার ও হ্যান্ডমাইক ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।
জকসুর দাবি, ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ অনেকে আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় হামলা চললেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
স্মারকলিপিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপি দেওয়ার পর জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য দেখিয়েছি। উপাচার্যের আশ্বাসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দিইনি। সহনশীল থেকে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছি।’
অ্যাম্বুল্যান্স হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে একটি অ্যাম্বুল্যান্স তুলে দেওয়া হয়েছে।’
হামলার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বহিরাগত, অছাত্র ও জড়িত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে হবে। বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তায় একটি সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারের জন্য তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে।’
জকসুর ৯ দফা দাবি হলো–প্রক্টরের পদত্যাগ, হামলায় জড়িত ছাত্র ও বহিরাগতদের চিহ্নত করে আইনের আওতায় আনা, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের, ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অছাত্রদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, সিসিটিভি ফুটেজ জকসুর প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সব ব্যয় বহন ও একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে না যাওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ, অছাত্রদের রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা।


