কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উখিয়া বালুখালী সীমান্তের মিয়ানমার অংশের ৭০০ মিটার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
আহতের নাম বদি আলম (৩২)। তিনি উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী জুমের ছড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বদি আলম বৃহস্পতিবার সকালে বালুখালী বিজিবি বিওপির পেছনের সীমান্তবর্তী এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির (এএ) পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার ডান পা ও শরীরের ডান পাশের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্তের বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘৬৪ বিজিবি বালুখালী বিওপির পেছনের সীমান্তবর্তী এলাকায় নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে একজন ব্যক্তি স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মইয়র (এএ) পুঁতে রাখা স্থলমাইনের বিস্ফোরণে তিনি আহত হয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা স্থলমাইনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ কিংবা কৃষিকাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের হতাহত হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে।
এর আগে, গত ২৮ জুলাই বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ৪৬-৪৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ১০০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত আউং থা পায়া পোস্টসংলগ্ন এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মো. আব্দুল করিম (৪০) নামে এক বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তার বাম পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গত ২৪ জুন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হন শফিউল আলম (৩৫)। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ৯ জুন উখিয়ার কুতুপালং-১ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবদুল খালেক (৩০) সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে নিহত হন।
এ ছাড়া গত ২ জুন নাইক্ষ্যংছড়ি তুইঙ্গাঝিরি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২) নামে এক কিশোর নিহত হয়। আর ২৪ মে একই সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন তঞ্চঙ্গা নিহত হন।
এসব ধারাবাহিক ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মাইনঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।


