ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি উচ্চ সামরিক আদালত।
মঙ্গলবার রাজধানী কিনশাসায় ঘোষিত রায়ে তাকে কঙ্গো রাষ্ট্রকে ২৯ বিলিয়ন ডলার, উত্তর কিভু প্রদেশকে ২ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশকে আরও ২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দেওয়া হয়।
দেশটির আদালতের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩-কে সহযোগিতা করে হত্যা, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও বিদ্রোহে উসকানির মতো অপরাধ সংঘটনে জড়িত ছিলেন কাবিলা।
গত জুলাই থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় কাবিলার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়। এ বছরের শুরুর দিকে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের একটি শহরে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল তাকে। বর্তমানে তার অবস্থান অজানা। আদালত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
সরকার অভিযোগ করেছে, কাবিলা প্রতিবেশী রোয়ান্ডা এবং রোয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ গোষ্ঠী চলতি বছরের শুরুতে খনিজসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে। যদিও কাবিলা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সানডে টাইমস-এ প্রকাশিত এক মতামতে তিনি এম২৩ বিদ্রোহীদের অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেন।
২০০১ সালে আততায়ীর গুলিতে নিহত লরঁ কাবিলার মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট হন জোসেফ কাবিলা। টানা ১৮ বছর দেশ শাসনের পর ২০১৯ সালে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স সিসেকেদিকে। তবে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির পর ২০২৩ সালে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান কাবিলা।
গত এপ্রিলে তিনি পূর্বাঞ্চলের সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু মে মাসে এম২৩-নিয়ন্ত্রিত গোমা শহরে উপস্থিতির পর প্রেসিডেন্ট সিসেকেদি অভিযোগ করেন, কাবিলাই বিদ্রোহীদের মূল পরিকল্পনাকারী। এরপর সিনেট তার সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রত্যাহার করে নিলে বিচার প্রক্রিয়ার পথ খুলে যায়।
এদিকে এম২৩ বিদ্রোহীরা ইতোমধ্যে গোমা, বুকাভুসহ পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করছে, প্রতিবেশী রোয়ান্ডা বিদ্রোহীদের সহায়তা দিচ্ছে এবং কঙ্গোর ভেতরে সেনা পাঠিয়েছে। তবে কিগালি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা শুধু সীমান্ত সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পূর্ব কঙ্গোতে সহিংসতা ও রক্তপাত এখনো অব্যাহত রয়েছে।


