ব্যাংকের টাকার জন্য বাবাকে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ উত্তোলন

ব্যাংকের টাকার জন্য বাবাকে হত্যার অভিযোগ, মরদেহ উত্তোলন
কবর খুড়ে মরদেহ তোলা হয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বাবাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে তার মেয়ে, নাতনি, নাতজামাই ও একটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ জুন নিহত তৈয়ব আলী সরকারের বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় ছোট বোন রহিমা বেগম, রহিমার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, জামাতা হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার সোহাগ মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তৈয়ব আলীর নলডাঙ্গার ইসলামী ব্যাংক শাখায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। সেই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার মেয়ে রহিমা বেগম চেকবই চুরি করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংকে লিখিত আবেদন করে চেকবই হারানোর কথা জানান এবং তার অনুমতি ছাড়া যেন কোনো টাকা উত্তোলন না করা হয়, সে অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন

অভিযোগে আরও বলা হয়, চলতি বছরের ১৪ মার্চ অসুস্থ তৈয়ব আলীকে চিকিৎসার কথা বলে ছেলে ও অন্য স্বজনদের অজান্তে নলডাঙ্গায় নিয়ে যান রহিমা বেগম। পরে বড় মেয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে রহিমা বাধা দেন। এরপর অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তৈয়ব আলীর স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় তার ব্যাংক হিসাব থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাত ১১টার দিকে রহিমা বেগম অন্য আসামিদের সহায়তায় বালিশচাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করেন। পরে দ্রুত তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মামলা দায়েরের দুই মাস ১৬ দিন পর আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, মরদেহ প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad