রাজধানীর পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি কর্মঘণ্টায় অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে এক চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযানে দেখা যায় নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মইনুল হাসান চিশতী নরসিংদীতে রোগী দেখার বদলে ঢাকায় রোগী দেখছেন।
দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরি (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স এবং সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো চিকিৎসক অফিস সময়ে বাইরের কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চেম্বারে প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত পেশাগত আচরণবিধি অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা ও অনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়সূত্রে জানা যায়, সরকারি অফিস চলাকালে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমতি না থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল এবং সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় অফিস চলাকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম করে আসার অভিযোগে মইনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির (রেজিগনেশন) কোনো কাগজপত্র বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংরক্ষণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
এ নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সরকারি চিকিৎসক চাকরি পরিবর্তন বা অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলে তার রেজিগনেশন লেটার ও এনওসি বাধ্যতামূলক। কেবল চিকিৎসকের কথার ভিত্তিতে তাকে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া আইনসম্মত নয়।’ লাভের আশায় এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
ম্যানেজার নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা তাদের ভুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রেখে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ কেউ যদি সরকারি দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান-উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


