৪৯৯ রানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৪ ছক্কা। ভারত-ইংল্যান্ডে ম্যাচের এই পরিসংখ্যানও যথেষ্ট নয়, ঠিক কতটা পাগলাটে এক টি-টোয়েন্টি দেখা গেছে বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। ২৫০ পেরোনো স্কোরও যে টি-টোয়েন্টিতে আর সেইফ নয়, সেটাও প্রমাণ হলো আরেকবার। ওভারপ্রতি তিন-চারটা বাউন্ডারি কিংবা টানা তিনটা ছক্কা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। চার-ছক্কার ফাঁকে উইকেটও পড়েছে বেশ। আধুনিক টি-টোয়েন্টির মূলমন্ত্র; এন্টারটেইনমেন্ট। সেটাও ছিল পুরো দমে। একদম শেষ বল পর্যন্ত।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২৫৪ রানের লক্ষ্য দিয়ে মাত্র ৭ রানে ম্যাচ জিতেছে ভারত। টানা দ্বিতীয়বার উঠেছে বিশ্বকাপের ফাইনালে। সব মিলিয়ে টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনালে দুই চেনা শত্রুর দেখা হয়েছে সেমিফাইনালে। ২০২২ সালের আসরে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতেছিল ইংলিশরা। ২০২৪ সালের আসরে হয়েছে ঠিক উল্টোটা। আর এবারও ভারত জেতায় তাদের সামনে রইল গত বিশ্বকাপের হিসেব আরো একবার মেলানোর সুযোগ।
২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালটা অ্যাডিলেডের গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন জ্যাকব বেথেল। তখন মাত্র অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে এসেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ফাইনাল দেখতে না পারলেও ঠিকই উল্লাস করেছিলেন ভারতের বিপক্ষে জস বাটলারের মারা উইনিং শটের পর। আর এবার নিজেকে আবিষ্কার করলেন সেই ভারতের বিপক্ষে আরো একটা সেমিফাইনালে। যখন মাঠে নামেন, তখন স্কোরকার্ড ৬৪/৩। সামনে রান পাহাড়। তবুও ভড়কালেন না এতটুকু।
৭ ছক্কা আর ৮ চারে ৪৮ বলে খেলেছেন ১০৫ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিটাও পেলেন পরম আরাধ্য এক ম্যাচে। যদিও শেষ ওভারে প্রথম বলে রান আউট হয়ে মাঠ ছেড়েছেন রাজ্যের বিষাদ নিয়ে। তবে এর আগে উইকেট যতক্ষণ ছিলেন, তাকে থামাতে পারেননি ভারতের কোনো বোলাররা। অক্ষর প্যাটেল, বরুণ চক্রবর্তী কিংবা হার্দিক পান্ডিয়া; পিটিয়েছেন সবাইকেই। ভুগেছেন যা একটু, সেটা জাসপ্রিত বুমরাহর বলেই।
অবশ্য এই বুমরাহুই ঘুরিয়ে দিয়েছেন ম্যাচের মোড়। জয়ের জন্য তখনো শেষ তিন ওভারে ৪৫ রান দরকার ছিল ইংলিশদের। নিজের শেষ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৬ রান। উইকেটে বেথেলের মতো ব্যাটার থাকার পরেও। সেই যে ম্যাচটা ভারতের দিকে হেলে পড়ল, ইংল্যান্ড আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ ওভার সূর্যকুমার বল তুলে দেন শিভাম দুবের হাতে। জয়ের জন্য লাগত ৩০ রান, প্রথম বলেই রান আউট হন বেথেল। এরপর টানা তিন ছক্কায় হারের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি আফসোসও বাড়িয়েছেন জফরা আর্চার।
কারণ এক ওভার আগেই হার্দিক পান্ডিয়ার লো ফুলটসে শুধু টাইমিং করে বলটা তিলক ভার্মার হাতে স্যাম কারান ক্যাচ না তুললে ম্যাচটা হয়তো জিতেও যেতে পারত ইংল্যান্ড। সেইজ আফসোস নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি, ইংল্যান্ডও টানা দুই বিশ্বকাপে বিদায় নিল সেমিফাইনাল থেকে। বোলারদের কথা এই ম্যাচে না বলাই বরং ভালো। আর্শদীপ চার ওভারে ৫১ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট, স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ৬৪ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট। যে বুমরাহ ইকোনমিক্যাল স্পেলের জন্য পরিচিত, তার বল থেকেও রান এসেছে ৩৩।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংস বড় করতে পারেননি অভিষেক শর্মা। খেলেছেন আগের ম্যাচের মতো সানজু স্যামসনই। ৭ ছক্কা আর ৮ চারে ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস। এরপর ইশানের ১৮ বলে ৩৯, হার্দিকের ১২ বলে ২৭, আর তিলকের ৭ বলে ২১ রানের ক্যামিওতে ২৫০ পেরিয়ে যায় ভারতের সংগ্রহ।
ঝড়ঝাপ্টা সবচেয়ে বেশি বয়ে গেছে আর্চারের ওপর, ৪ ওভারে ৬১ দিয়ে ১ উইকেট নেন এই ডানহাতি পেসার, স্যাম কারান ৪ ওভারে দিয়েছেন ৫৩ রান।


