গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পাঁচ খুনের দায় স্বীকার করেছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি তার ভাইকে ফোন করে বলেন, ‘পরিবারের সবাইরে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না’।
স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করেন প্রাইভেট কার চালক ফোরকান মিয়া। নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), বড় মেয়ে মীম খানম (১৫), মেজ মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। নিহত শারমিনের বাবার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার পাইককান্দি এলাকায়। অভিযুক্ত ফোরকানের গ্রামের বাড়িও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়।
ময়নাতদন্ত শেষে গাজীপুর থেকে লাশ গোপালগঞ্জে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নিজের ছেলে-মেয়ে আর নাতি-নাতনি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফিরোজা বেগম (৬০)। বুক চাপড়ে, বিলাপ করে তিনি শুধু বলছিলেন, ‘আমার বাবারে মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার ধনডারে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো রে আল্লাহ…।’
নিহত শারমিন ও রসুলের চাচা খবির মোল্লা জানান, শুক্রবার রসুল শারমিনের বাসায় যাওয়ার পর রাত ৮টায় মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সবাই ভেবেছিলো ফোনে হয়তো চার্জ নেই। ভোর সাড়ে ৫টায় জামাইয়ের ভাই (ফোরকান মোল্লার ভাই ) জব্বার মোল্লা কল করে বলে শারমিনের বাসার সবাই মারা গেছে।
কীভাবে মারা গেলো জানতে চাইলে সে বলে, তার ভাই তাদের কল করে জানিয়েছে। ‘পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না’- এই বলে ফোন কেটে দেয়।
সন্তান-নাতি হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন শারমিনের মা ফিরোজা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বাজান নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাসায় গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া!’
শাহাদাত – ফিরোজা দম্পতির চার মেয়ে তিন ছেলের মধ্যে শারমিন আক্তার তৃতীয় ও রসুল মোল্লা সবার ছোট। বড় মেয়ে বিয়ের কয়েক বছর পর ব্যাধিতে মারা যায়। এখন এক সাথে দুই সন্তানকে মেরে ফেলল।
খবির মোল্লা বলেন, ‘বাবা-মায়ের সামনে সন্তানদের মেরে ফেললে বাবা-মা কিভাবে বেঁচে থাকে। আমার ভাই গ্রাম পুলিশ ( চৌকিদার)। অনেক কষ্ট করে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে সন্তানদের বড় করেছে। রসুল মোল্লা গাজীপুরে একটি পোশাক তৈরি কারখানায় চাকরি করতো। থাকতো বড় বোন ফাতেমার বাসায়।’
জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গিয়ে বসবাস করছিলেন। ফোরকান প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন।
খবির মোল্লা জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ আনা হলে পাইককান্দি গ্রামে দাফন করা হবে।


