ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে এক বিশাল আবাসন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
তিনি জানিয়েছেন, কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ১৮টি নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর দয়াগঞ্জস্থ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস পরিদর্শনকালে প্রশাসক এই তথ্য জানান। পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, মিরনজিল্লা, ধলপুর, গণকটুলি, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী ও পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন কলোনিতে এই নতুন ভবনগুলো নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ামাত্রই দ্রুত গতিতে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ভবন নির্মাণ চলাকালীন কর্মীদের আবাসন সংকট যেন না হয়, সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মো. আবদুস সালাম বলেন, বর্তমান ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
নতুন ভবন নির্মাণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সফল করতে তিনি কর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নাগরিক অধিকারের বিষয়ে জোর দিয়ে প্রশাসক ঘোষণা করেন, প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্পে মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রাখা হবে। এ ছাড়া কর্মীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে তিনি জানান, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে এবং গ্যাস বিল পরিশোধের দায়িত্ব নেবে খোদ সিটি করপোরেশন।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, এবার কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনকারী কর্মীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে।
একইসঙ্গে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন বা খালে ময়লা না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতিও তিনি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে প্রশাসকের সঙ্গে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


