জুবায়ের তানিন, আবু ধাবি থেকে
দর্শকদের প্রত্যাশা, সমীকরণের চাপ, এশিয়া কাপে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ। অনেক কিছু মাথার ওপর নিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মঙ্গলবার বাঁচা-মরার ম্যাচে নেমেছে বাংলাদেশ। আবু ধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্তিত্ব রক্ষার এই ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে এসেছে চারটি পরিবর্তন।
এরপর পাওয়ারপ্লেতে উড়ন্ত সূচনা, ইনিংসের মাঝে তাওহিদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিং হলেও ডেথ ওভারের ব্যাটিং ভোগাল বাংলাদেশকে। তানজিদ হাসান তামিমের ৫২, মাঝে হৃদয়ের ২৬ ও শেষদিকে নুরুল হাসন সোহানের ৬ বলে ১২ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে শুরুটা যত দারুণ, শেষটা ততই হতাশার বাংলাদেশের। ওপেনিং জুটিতে প্রথম ৪০ বলে ৬৩ রানে তুললেও শেষ চার ওভারে এক উইকেট হারিয়ে তুলেছে মাত্র ৩০ রান। শেষ চার ওভারে খেলেছে ১১টি ডট বল।
টসের পর পিচ রিপোর্টে রবি শাস্ত্রী আর রাসেল আর্নল্ড বলছিলেন, প্রথমে ব্যাট করে এই উইকেটে ১৬০-১৬৫ হতে পারে লড়াই করার জন্য আদর্শ। শেষ দিকে ১৫-২০ রান করতে পারলে, সেটা হবে বোনাস। কিন্তু প্রথম ছয় ওভারে ভালো শুরু পেয়েও ১৭০-৮০ করতে না পারাটা বাংলাদেশকে কতটা ভোগায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কারণ আফগানদের যে অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন আপ, তাতে এই সংগ্রহও মামুলি মনে হতে পারে।
আগের দুই ম্যাচের ওপেনিং জুটি ভেঙে সাইফ হাসানকে নেয়া হয়েছে পারভেজ ইমনের জায়গায়। এই টোটকাই যেন কাজে আসল বাংলাদেশের। সাইফ-তানজিদের ব্যাটে পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৫৯, যা এবারের এশিয়া কাপ তো বটেই, শেষ ১ও ইনিংসেও ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। যদিও এই জুটির শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, আগের দুই ম্যাচের জীর্ণ দশাই বুঝি ফিরে আসছে, শুধু চরিত্রগুলো বদলেছে।
নতুন বলে ফজলহক ফারুকীর লেট মুভমেন্টের সাথে মানিয়েই নিতে পারেননি দুই ওপেনার। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে একটা অফ ড্রাইভ করে কভারে ক্যাচ তুললেও জীবন পেয়েছেন সাইফ। এক ওভার পরে তানজিদ জীবন পেয়েছেন দুবার, সেই ফারুকীর বলেই। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে স্লিপ আর কিপারে মাঝ দিয়ে এসেছে প্রথম চার। এলবিডব্লিউ হয়েও তানজিদ বেঁচে গেছেন আম্পায়ার্স কলে।
সেই ওভারেই মোমেন্টামটা পেয়েছে বাংলাদেশ। ফারুকীর বলে আরো তিনটা চার মেরেছেন তানজিদ। জীবন পেয়ে সেটা দারুণভাবে কাজেও লাগিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ২৮ বলে ছুঁয়েছেন নিজের সপ্তম ফিফটি। নূর আহমাদের বলে ইব্রাহিম জাদরানের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে তিন ছক্কা আর চারটি চারে খেলেছেন ৫২ রানের ইনিংস। তিন ছক্কার দুটো মেরেছেন স্লগ সুইপে আল্লাহ মোহাম্মদ গজনফরকে। আর শেষটা জুটেছে স্কয়ার লেগ দিয়ে মোহাম্মদ নবীর কপালে।
অবশ্য তানজিদের সাথে পাওয়ারপ্লেতে ৫৯ রানের জুটি গড়া সাইফও জীবন পেয়ে হাত খুলে খেলেছেন। রশিদ খানের নিচু হয়ে আসা এক বলে বোল্ড হয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তবে এর আগে দুই ছক্কা ও এক চারে ২৮ বলে করেছেন ৩০ রানে।
ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক লিটন দাস, এলবিডব্লিউ হয়েছেন নূরের বলে, ১১ বলে করেছেন ৯ রান। পাঁচে নামা শামীম পাটোয়ারী আফগান স্পিনারদের সাথে মানিয়ে নিতে পারেননি। মিডল-ওভারে রানের দেখা পেতে বেশ কয়েকবার রিভার্স সুইপও করেছেন, কিন্তু ব্যাটে-বলে হয়নি কোনোটাই। রশিদের দ্বিতীয় শিকার এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ২০ বলে ২৬ রান।


