জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা পদত্যাগ করেছেন।
শনিবার দুপুরে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, ‘আমি জাকসু নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য। এই কাজের সময় আমি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং কমিশন কার্যালয় থেকে সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হই। ফলে বিগত বেশকিছু দিনের নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যেমন–ব্যালট পেপার, বাজেট চূড়ান্তকরণ এবং অমর্ত্য রায়ের ভিপি পদ প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি ওয়াকিবহাল ছিলাম না। এমনকি এই বিষয়ে আমাকে কোনো তথ্যও জানানো হয়নি, এবং এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমাকে অবহিত না করে একচ্ছত্রভাবে কমিশন ও প্রশাসনিকভাবে গ্রহণ করা হয়। তবে, দায়িত্বের খাতিরে এবং শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও, ভোট গণনার পর আমি নির্বাচনে উপস্থিত হয়ে যথাসাধ্য কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করেছি।‘
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, দুর্বল প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, অতিমাত্রার রাজনৈতিক সমীকরণ, এবং একজন শিক্ষকের অকাল প্রয়াণ—যিনি ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগই পাননি—তাকেও নির্বাচনের ভোট গণনায় যুক্ত করার মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব কারণে, একজন নিরপেক্ষ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন কমিশনে আমার দায়িত্ব পালন করা নৈতিকভাবে সম্ভব নয়।‘
রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা যোগ করেন, ‘জাকসু নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় তৎপর না হয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য যখন এই কমিশন ব্যবহৃত হয়, তখন এই পরিস্থিতিতে আমি কমিশনের সদস্য হিসেবে থাকতে পারি না। সুতরাং, আমি আবেদন জানাচ্ছি যে, আমাকে নির্বাচন কমিশনের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।‘
এর আগে, শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তারও পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে আসা বিভিন্ন অভিযোগের সুরাহা না করেই ভোট গণনা চালিয়ে যাওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।


