অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ করতে এবং সেবার মান ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
বৃহস্পতিবার বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অভ্যন্তরীণ নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বিআইডব্লিউটিএর কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অগ্রাধিকারভিত্তিতে খনন, নৌপথে বয়া, বাতি, বিকনসহ নৌ-চিহ্ন আরও দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ, অনিষ্পন্ন ঘাট ইজারা দ্রুত নিষ্পত্তি, ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করা এবং ঘাট-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া নদীবন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অটোমেশনের আওতায় আনা, নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য সম্ভাবনাময় নতুন খাত চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে বিআইডব্লিউটিএর সেবার মান আরও উন্নত হবে, রাজস্ব আহরণ বাড়বে, নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর, নিরাপদ ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।
সভায় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন। এতে ড্রেজিং কার্যক্রম, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নদীবন্দর ব্যবস্থাপনা, ইজারা কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াসহ বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


