একে একে টানা তিন জয়। প্রথমে আফগানিস্তান, দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল আর বুধবার শ্রীলংকাকে উড়িয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। দুবাইয়ের আইসিসি একাডেমি গ্রাউন্ডে ২২৫ রানের পূঁজি নিয়েও শাহরিয়ার আহমেদ-ইকবাল হোসেন ইমনদের দারুণ বোলিংয়ে লংকানরা গুটিয়ে গেছে ১৮৬ রানে। ৩৯ রানের এই জয়ে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হল বাংলাদেশের।।
২২৬ রান তাড়ায় করতে নেমে দিশেহারা হয়ে পড়ে লংকান ব্যাটাররা। ৪৪ রানের মধ্যেই পড়ে প্রথম চার উইকেট। এক প্রান্ত থেকে বাঁহাতি স্পিনার সামিউন বাসিরের ঘূর্ণি, অন্য দিক থেকে পেসার ইকবাল হোসেন ইমনের দারুণ সব ইনসুইং। তার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দাপট। এই ডানহাতি পেসারের তোপ দাগানো বোলিং চলেছে বাকি ইনিংসজুড়েও। ম্যাচ শেষ করেছেন ১০ ওভারে দুই মেইডেন-সহ মাত্র ৩৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে।
টপ অর্ডারে ধসের পর মিডল অর্ডারেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি শ্রীলংকা। একপ্রান্ত ঠিকই আগলে রেখেছিলেন লংকান বাঁহাতি ব্যাটার চামিকা হেনাথিগালা। ৬৭ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলা এই ব্যাটারকে বোল্ড করে ফিরিয়েছেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার শাহরিয়ার। এর আগে আরও দুই উইকেট নেন তিনি, ইনিংস শেষ করেছেন ১০ ওভারে ২৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে। ম্যাচ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এসেছিল ইনিংসের মাঝপথেই। জয় পেতে বিলম্ব যা হয়েছে তা কেবল আধাম হিলমির ৩৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে। এই দুই ব্যাটার ছাড়া বাংলাদেশি বোলারদের সামনে পাত্তা পাননি শ্রীলংকার কেউই।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এই ম্যাচেও বাংলাদেশের ত্রাতা জাওয়াদ আবরার। প্রথম ম্যাচে ৯৬, দ্বিতীয় ম্যাচে ৭০* করলেও শ্রীলংকার বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে এক রানের জন্য আরেকটি ফিফটি মিস করেছেন এই ডানহাতি ওপেনার। তবে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন তিনি। চারটি করে ছক্কা ও চারে ৩৬ বলে করেছেন ৪৯। রাসিথ নিমসারার বলে গামাগের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে রিফাত বেগের সাথে গড়েছেন ৮৩ রানের জুটি। ১৯ রানের ব্যবধানে নিমসারার দ্বিতীয় শিকার হন আরেক ওপেনার রিফাত বেগও।
যদিও দুই ওপেনারকে হারানোর চাপটা বাংলাদেশ সামলে উঠে অধিনায়ক তামিম আর কালাম সিদ্দিকির ৫৩ রানের জুটিতে। সেই জুটি আরো বড় হওয়ার আগেই শ্রীলংকাকে চামুদিথা ব্রেক থ্রু এনে দেন তামিমকে বোল্ড করে। এরপরই রীতিমতো ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। ৩৫ রানের ব্যবধানে পড়ে মাঝের ছয় উইকেট। তামিমের বিদায়ের পর রিজান, শাহরিয়ার, শাহারিয়াদের কেউই খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। নিমিষেই ১৫৬/২ থেকে স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ১৯১/৮। সেখান থেকে ফরিদের ২৯ ও ইমনের ৬ বলে ১২* রানের ইনিংসে ২০০ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন অফস্পিনার কাভিজা গামাগে। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন নিমসারা ও চামুদিথা।


