রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এসময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা টাইমসকে জানান শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস ২৩ জনের মরদেহ, স্থানীয় জনতা দুই জনের ও নৌবাহিনীর ডুবুরি একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহতদের ২৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, রাজবাড়ী পৌরসভা ভবানীপুর গ্রামের লালমিয়া সড়কের মৃত ইসমাঈল হোসেন খানের স্ত্রী রেহেনা আক্তার (৬১), কুষ্টিয়া জেলার পৌরসভা মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), রাজবাড়ী পৌরসভা ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত আবদুল আলীমের মেয়ে জহুরা অন্তি (২৭), কাজী মুকুলের ছেলে কাজী সাইফ (৩০), কেবিএম মুসাব্বিরের ছেলে তাজবিদ (৭)।

গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৩২), মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), রাজবাড়ী কালুখালী বোয়ালিয়া ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ফাইজ শাহানূর (১১), বাস চালক বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালকোলা গ্রামের আরব খানের ছেলে আরমান খান (৩১), কালুখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের আব্দুল আজিজের স্ত্রী নাজমিরা জেসমিন (৩০), রাজবাড়ী সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবাহান মন্ডলের মেয়ে লিমা আক্তার (২৬), বড় চর বেনী নগর গ্রামের মান্নান মন্ডলের স্ত্রী জোস্ন্যা (৩৫)।

গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া আমতলী নোয়াধা গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মুক্তা খানম (৩৮), দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী নাছিমা (৪০), ঢাকা জেলার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার মেয়ে সোহা আক্তার (১১), কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের নুরুজ্জামানের ছেলে আরমান (৭ মাস), কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আব্দুর রহমান (৬), রাজবাড়ী সদরের দাদশী ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে সাবিত হাসান (৮), পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ডের ভবানীপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, রাতেই নিহতদের স্বজনেরা পরিচয় শনাক্ত করার পরে মৃতদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।


