বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ইতিহাসে এমনটা আগে কখনোই হয়নি। বাবা-ছেলে খেলছেন এক দলের হয়ে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রেকর্ডপত্র ঘেঁটেও বোধ হয় এমন কিছুর অস্ত্বিত্ব পাওয়া সম্ভব নয়। অভূতপূর্ব এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে এবারের বিপিএলে, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বরাতে। আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর সাথে তার ছেলে হাসান ইসাখিলকেও সরাসরি চুক্তিতে দলে টেনেছে এবারের বিপিএলের নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
মাঠে নামার আগেই যারা এমন চমক দেখিয়েছে, তারা কেমন দল গোছায় নিজেদের প্রথম আসরে, তা ছিল অনেকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সব মিলিয়ে নিলাম ও সরাসরি চুক্তিতে তারুণ্য নির্ভর দল গুছিয়েছে তারা। প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন।
কেমন হলো নোয়াখালীর স্কোয়াড? শক্তিমত্তা কোথায়? দুর্বলতাই বা কী? কারা হতে পারেন নোয়াখালীবাসীর স্বপ্নসারথি? টাইমসের আজকের আয়োজনে থাকছে নোয়াখালীর স্কোয়াড প্রিভিউ-
শক্তি
নিলামের আগেই প্রথম চমক দেয় নোয়াখালী। সরাসরি চুক্তিতে তারা দলে নেয় সৌম্য সরকার ও হাসান মাহমুদকে। নিলাম থেকে টেনেছে সৈকত আলী ও সাব্বির হোসেনকে। বিদেশিদের মধ্যে সরাসরি চুক্তিতে নিয়েছে শ্রীলংকান ওপেনার কুশল মেন্ডিস ও ক্যারিবিয়ান হার্ড হিটার জনসন চার্লসকে।
মেন্ডিসের ইনজুরি শঙ্কা থাকায় তার বদলি হিসেবে নেয়া হয় আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ অতলকে। দেশিদের মধ্যে নোয়াখালীর স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে সেঞ্চুরি করা ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। দেশিদের মধ্যে আশার প্রতীক হতে পারেন আরেক তরুণ ব্যাটার শাহাদাত হোসেন দীপুও। এছাড়া পাকিস্তানের ব্যাটার মাজ সাদাকাতও এই দলের অংশ। দিন দুয়েক আগে তারা দলে ভিড়িয়েছে মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ঈসাখিলকে।
টি-টোয়েন্টি আর বিপিএলের মানদণ্ড বিবেচনায় নোয়াখালীর টপ অর্ডারকে বিশ্বমানের হয়তো বলা যেতে পারে। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে নোয়াখালীতে ওপেবারদের ছড়াছড়ি, আছে যথেষ্ট বিকল্পও। তবে আইএল টি-টোয়েন্টির জন্য শুরু থেকে তারা পাচ্ছে না অতলকে।
তবে বোলিং ইউনিটটা বেশ ভালোভাবেই গুছিয়েছে দক্ষিণ পাড়ের দলটি। বিশেষ করে তাদের পেস বোলিং ইউনিট নিজেদের দিনে নাভিশ্বাস উঠিয়ে দিতে পারে প্রতিপক্ষের। পেস বোলিং ইউনিটের নেতৃত্বে থাকছেন হাসান মাহমুদ। তার সাথে পেস আক্রমণে থাকছেন রেজাউর রহমান রাজা, মুশফিক হাসান, মেহেদী হাসান রানাদের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফর্মাররা। পাকিস্তানের ইহসানউল্লাহ খান, আফগান পেসার বিলাল সামি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইবরার আহমেদরা যোগ দিলে আরো ধার বাড়বে তাদের।
স্পিন অ্যাটাকেও ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে নোয়াখালী। রয়েছেন জাতীয় দলে খেলা অভিজ্ঞ স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু, এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দারুণ পারফর্ম করা বাঁহাতি স্পিনার আবু হাশিম। এছাড়াও রয়েছেন আফগান স্পিনার জহির খান।
দুর্বলতা
টপ অর্ডার সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলেও মিডল অর্ডার কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে। অভিজ্ঞ নবীকে শুরু থেকেই পাচ্ছে না নোয়াখালী, তিনি ব্যস্ত থাকবেন আইএল টি-টোয়েন্টিতে। পাকিস্তানের হায়দার আলীও নেই ছন্দে।
দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে অভিজ্ঞ জাকের আলী অনিক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে অনেকটা নিয়মের বেড়াজালের কারণেই দলে পেয়েছে তারা। এই দুই ব্যাটারের ফর্ম নিয়ে আছে দুর্ভাবনার জায়গা। জাকেরের সাম্প্রতিক ফর্মও খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়। শেষ ১৩ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নেই কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ ৪১*, গত সেপ্টেম্বরে আবু ধাবিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে। এর সাথে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও তার ব্যাটিং এপ্রোচ খাপ খায়নি দলের চাহিদার সাথে।
সর্বশেষ এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি অঙ্কনও। চার ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মোট ৩২ রান, যার ২৭-ই এসেছে এক ইনিংসে। যদিও মঙ্গলবার দলীয় অনুশীলন শেষে বলেছেন, নিজের সেরাটা দিতেই প্রস্তুত আছেন তিনি।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস স্কোয়াড:
দেশি ক্রিকেটার: সৌম্য সরকার, হাসান মাহমুদ, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জাকের আলী অনিক, হাবিবুর রহমান সোহান, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ আবু হাসিম, মুশফিক হাসান, শাহাদাত হোসেন দিপু, রেজাউর রহমান রাজা, মেহেদী হাসান রানা, সৈকত আলী, সাব্বির হোসেন ও রহমতউল্লাহ আলী।
বিদেশি ক্রিকেটার: জনসন চার্লস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ইহসানুল্লাহ খান (পাকিস্তান), হায়দার আলী (পাকিস্তান), মোহাম্মদ নবী (আফগানিস্তান), মাজ সাদাকাত (পাকিস্তান), জাহির খান (আফগানিস্তান), ইবরার আহমেদ (আরব আমিরাত), বিলাল সামি (আফগানিস্তান), সেদিকুল্লাহ অতল (আফগানিস্তান), হাসান ঈসাখিল (আফগানিস্তান)।


