সিলেট নগর বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বর্তমান বাৎসরিক আয় ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৬ টাকা। অথচ ২০১৮ সালে তার বাৎসরিক আয় ছিল ৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। টাকায়। অর্থাৎ আয় বেড়েছে চারগুনেরও বেশি, আর মোট সম্পদ বেড়েছে দ্বিগুণ।
এদিকে, ২০১৮ সালের হলফনামায়, আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর আয় ছিল ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩০০ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৯ টাকায়। আরিফের স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোটিপতি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
আসন্ন নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আরিফের বর্তমান অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকা। এই সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ টাকা। ২০১৮ সালে আরিফুল হক চৌধুরীর নিজের অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৩ টাকার। এই ৭ বছরে সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটিরও বেশি টাকার।
আরিফুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে কৃষিখাতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৩০ টাকা, বাড়ি অ্যাপার্টম্যান্ট ও বাণিজ্যিক খাত থেকে আয় ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা ও এই খাতে তার স্ত্রীর আয় ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৪ টাকা, ব্যবসা থেকে আরিফের আয় ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬০৯ টাকা ও তার স্ত্রীর আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, শেয়ার থেকে আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৪ হাজার টাকা ও স্ত্রীর আয় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৫ টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরিফের আয় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০৩ টাকা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় আরিফের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা। যা অর্জনকালীন সময়ে ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ৭৮৪ টাকা। অথচ ২০১৮ সালে আরিফের স্ত্রীর নামে কোনো অস্থাবর সম্পত্তি ছিল না।
হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, আরিফুল হক চৌধুরী অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে ৫ হাজার ৯১৮ ডলার ও ৬ হাজার ৮৩১ পাউন্ড, ব্যাংকে জমা ১ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৯ টাকা, বন্ড-শেয়ার ৩৮ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৫ টাকা, পোস্টাল-সঞ্চয় ৫৩ লাখ ৫ হাজার ২১৫ টাকা, মোটরগাড়ি ১ কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৮ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র ৩ লাখ টাকা।
আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা ৩৫ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রার ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ টাকা, পোস্টাল-সঞ্চয় ৫৮ লাখ টাকা, মোটরগাড়ি ১২ লাখ টাকা, ২৭ ভরি স্বর্ণ, আসবাবপত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮ হাজার ৭৮৪ টাকা।
২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হলফনামায় স্থাবর সম্পদ থাকলেও সেটির হিসাব টাকায় উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু ৭ বছর পরে এসে সেই সম্পদের হিসাব টাকায় উল্লেখ করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। নিজের দেওয়া তথ্যমতে বর্তমানে তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকার। যার অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ছিল ৬ কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ টাকা।
বর্তমানে আরিফের স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা। এসব সম্পত্তির অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ছিল ৫ লাখ ৭৫ হাজার ১৩ হাজার ২০৭ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরীর নামে ২০ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ টাকার কৃষি জমি, ৮৯ লাখ ৯ হাজার ৩৬৪ টাকার, বাড়ি অ্যাপার্টম্যান্ট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকা, চা বাগান ও খামার ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, অন্যান্য ৪ কোটি ১৬ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৬ টাকা।
আরিফের স্ত্রী শামা হক চৌধুরীর নামে অকৃষি জমি রয়েছে ১৫ লাখ ১২ হাজার টাকা, বাড়ি ও অ্যাপার্টম্যান্ট রয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ১ হাজার ২০৭ টাকার।


