জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে দেড়শ’ জনের বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করার তিন দিন পরেও মামলা রুজু হয়নি। গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা মডেল থানায় মামলার আবেদন করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান সম্রাট। ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ তাদের নেতাকর্মীদের মিছিলের ওপর জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ দায়েরের পরেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে সন্দেহ। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, মামলাটি কী রাজনৈতিক চাপের কারণে আটকে আছে, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে?
সম্প্রতি জাপাকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে কয়েকটি দল আওয়াজ তুললেও বিএনপি সরাসরি এর বিরোধিতা করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ ‘নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ করা বিএনপি চায় না’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে বিএনপির সম্মতি ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট ও মাঠের রাজনীতির কৌশলগত সুবিধা নিতে বিএনপি জাপাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে চায়। জাতীয় পার্টির প্রতি কোন ধরনের দমন পীড়ন না করতে সরকারের উপর বিএনপিসহ ‘দেশি- বিদেশি ইঙ্গিত’ থাকতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশলগত কারণে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে রাখতে চাইতে পারে বিএনপি। এটি বিএনপির যৌক্তিক চাওয়া। কারণ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর, যদি আর কোনো দল নিষিদ্ধ হয়, এক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারত অখুশি হতে পারে। দেশগুলো নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।’
তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘কারা কোথায় মামলা করতে গেল, তা আমরা জানি না, এ বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে বিএনপি।’
রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম ফারুক টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযোগকারী বা গণঅধিকার পরিষদের কেউ আর যোগাযোগ করেনি। তাই এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি।
মামলার আবেদনকারী আখতারুজ্জামান সম্রাট জানিয়েছেন, ‘অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থল কোন থানা এলাকায় পড়ে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে অভিযোগ গ্রহণ করলেও মামলা রেকর্ড হয়নি।’

সম্রাট দাবি করেন, অপরিচিত অনেক নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজ করা হয়েছে। আইনজীবী অধিকার পরিষদ বিষয়টি দেখছে। থানা মামলা রেকর্ড না করলে তারা আদালতে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দসহ কর্মীদের বিরুদ্ধে গণধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দুটি অভিযোগ থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। সম্রাট ছাড়াও গণধিকার আইনজীবী পরিষদ একটি অভিযোগ দিয়েছে। দুটি অভিযোগই ঝুলে আছে। মামলা রেকর্ড না করতে কোনো চাপ নেই, তবে অভিযোগ দুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

গত ২৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদ ও জাপা নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরে দুই দফায় জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে নুরসহ দলের নেতাদের ওপর হামলার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জাপার বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠনের নেতা সম্রাট মামলার আবেদন করেছেন।


