ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন করতে সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্সে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স ২০২৫-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ সহায়তার কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নির্বাচনের সময়। আমরা প্রস্তুত, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সামরিক বাহিনী, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন।’
অভ্যুত্থিান থেকে নির্বাচনের পথের এই যাত্রাকে বড় প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, আনন্দ ও মিলনের সময়। মানুষ তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারবে।’
এখনো তফসিল ঘোষণা না হলেও প্রশাসনে শুরু হয়েছে নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা। মাঠপ্রশাসনে রদবদল আনা হচ্ছে, পুলিশেও শুরু হয়েছে বদলি, পদায়ন।
নির্বাচনের মাঠে এবার দেড় লাখ পুলিশ সদস্য ছাড়াও সেনা-আনসার-নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ লাখ সদস্য বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। এরই মধ্যে পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়া গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই মাঠে আছে সেনাবাহিনী। সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাও।
এতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পেয়েছেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা।
গত ১২ নভেম্বর সবশেষ এই ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকবে তাদের এই ক্ষমতা। ফলে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যদি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হয়, তাহলে সেসময়ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবেন সেনা কর্মকর্তারা।


