ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নির্বাচন কমিশন(ইসি) এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘কারও পক্ষে নয় আইন অনুযায়ী নিরপক্ষেভাবে কাজ করছে ইসি।’
শনিবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৫’-এ যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে সারা দেশ থেকে প্রায় সাড়ে আটশ উপজেলা, জেলা এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা অংশ নেন।
সিইসি বলেন, ‘কমিশন বহু দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বেআইনি কোনো নির্দেশনা ইসি থেকে দেওয়া হবে না। আগামী নির্বাচন বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই বিশেষভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কাজ করা খুবই কঠিন। তবে কিছু পক্ষ সুবিধা পেলেও বেশিরভাগ মানুষের জন্য এটি চ্যালেঞ্জের।’
নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ‘২ মার্চ আপনাদের শপথ গ্রহণ করিয়েছিলাম। আপনারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই অঙ্গীকারে অটল থাকবেন। আমরা কোনো পক্ষের হয়ে কাউকে সুবিধা দিতে অন্যায় নির্দেশনা দেব না। আমাদের নির্দেশনা হবে সম্পূর্ণ আইনের বিধি মোতাবেক। আমরা নিশ্চিত করব আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ল্যাপটপ, ক্যামেরা, স্ক্যানার কিছুই হাতে ছিল না, কিন্তু ধীরে ধীরে সব সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘যত গাড়ি, ক্যামেরা বা ল্যাপটপই থাকুক না কেন, আসল শক্তি হচ্ছে পিছনের মানুষ। মানুষ সঠিক না হলে যন্ত্রপাতি কোনো কাজে আসবে না।’
নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের হবে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
১০ মাস ১০ দিনে কমিশন প্রমাণ করেছে যে নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড আছে, এমন মন্তব্য করে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিশন শক্ত মেরুদণ্ড নিয়ে কাজ করছে। কারো প্রতি রাগ-অনুরাগ বা বিরাগভাজন হয়ে কাজ করছে না।


