মিয়ানমারের জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আগামী বছরই নিজ দেশে ফিরে যাবে বলে আশা করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনায় সরকারের এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
আর কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন দেশে মিয়ানমারের যেসব রোহিঙ্গা নাগরিক আশ্রিত অবস্থায় আছেন তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে অঙ্গীকারবদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার।’
‘রোহিঙ্গা সমস্যার সংকট ও সমাধান’ শীর্ষক কৌশলগত এই আলোচনার আয়োজন করে নীতি গবেষণা কেন্দ্র।
এই আলোচনায় অংশ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। সরকার এজন্য কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমান সরকার আশা করছে সামনের বছর রোহিঙ্গারা তাদের দেশে চলে যেতে পারবে।’
রোহিঙ্গা সংকট সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং সামরিক উল্লেখ করে এটিকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান কবি ফরহাদ মজহার।
তিনি বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র একটি মানবতাবাদী সমস্যা নয়, এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক সমস্যা। এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক সমস্যাও। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’
আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল এলায়েন্সের (আরএনএ) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে রাজনৈতিক বা দেশীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আরাকান আর্মি এবং এসএসপিসিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক শ্রম এবং জোরপূর্বক নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে; রোহিঙ্গাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শেষে ঢাকা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি ড. মাহবুবুল হক।
ঘোষণাপত্রে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে স্থানীয় ও জাতীয় পরামর্শ সভার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


