বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে বাংলাদেশে নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনের অনুমতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজি ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুল দেয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডকে দশ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই বিষয়ে জনস্বার্থে রিট করেন সায়েরে নাজাবি সায়েম, আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম ও মাহির চৌধুরী। রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ার।
রিটকারীরা আদালতকে জানান, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল বেজা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় ফিলিপ মরিস বাংলাদেশ লিমিটেডকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেয়, যেখানে উৎপাদিত পণ্য কেবল দেশীয় বাজারে বিক্রির কথা বলা হয়।
তারা বলেন, নিকোটিন পাউচ মূলত তামাকজাত পণ্য হওয়ায় এটি তরুণদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা বাড়াবে, যা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ব্যারিস্টার আসিফ বিন আনোয়ার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দেশে নতুন তামাকজাত পণ্যের কারখানা অনুমোদন না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বিদ্যমান তামাক কোম্পানিগুলোকে ধীরে ধীরে অন্য শিল্পে রূপান্তরের কথাও বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশনার পরিপন্থী হয়ে বেজা এই অনুমতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে এই অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করে বেজাকে পত্র পাঠিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১ মার্চ তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনতে ছয় দফা নির্দেশনা দেয়, যার মধ্যে নতুন তামাক কোম্পানি অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি ছিল অন্যতম।
সংবিধানেও জনস্বাস্থ্যহানিকর ভেষজ নিষিদ্ধ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। হাইকোর্টের জারিকৃত রুলের জবাব পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে।


