নাটোর ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন আউটসোর্সিং কর্মীর বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ কন্যা সন্তানকে নিয়ে চার দিন আগে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হন। গত ৭ জুন রাত ১০টার দিকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের এক আউটসোর্সিং কর্মী তাকে ডেকে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের একটি সিঁড়িঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় অপর দুই কর্মী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, গভীর রাতে শিশু ওয়ার্ডে শিশুটিকে দীর্ঘ সময় একা দেখতে পেয়ে দায়িত্বরত নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা তার মাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে আনসার সদস্যদের সহায়তায় হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে তারা হাসপাতালের ছয় তলার সিঁড়ি ঘরে তাদের পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয় তলার সিঁড়িতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন দাবি করেন, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হয়েছে।
নাটোর সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


