বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্র শরীক দলের আসন কমে যাচ্ছে। আগে মিত্রদের জন্য ২২ থেকে ২৫টি আসন দেওয়ার কথা শোনা গেলেও এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১২টিতে। এনিয়ে দেনদরবার করেও বিএনপির সঙ্গে মিত্র দলগুলোর চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। মিত্র দলগুলো চাইছে অন্তত ২৫টি আসন।
প্রসঙ্গত, বিএনপি দুই দফায় ২৭২টি আসনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এখনো নাম ঘোষণার বাকি আছে ২৮টি আসন।
বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানান, নির্বাচনী আইন(আরপিও) সংশোধনের আগে পরিস্থিতি এক রকম ছিল। তখন মিত্র দলের প্রার্থীরাও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারতেন। সেক্ষেত্রে ধানের শীষের কারণেই তাদের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু আরপিও সঙশোধনের পর এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। মিত্র দলের অনেক প্রার্থীর জন্যই ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য মিত্র দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদেরকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তা নাহলে মিত্র দলগুলো নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে চাইলে সবাইকে আসন দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে মিত্র দলের অনেকেই ‘বড় দলের ছোট নেতা’ হতে রাজি হচ্ছেন না।
অবশ্য এরই মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এলডিপি) শাহাদাত হোসেন সেলিম এরই মধ্যে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া নিশ্চিত করেছে বিএনপি।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেসব নেতাকে আসন ছাড়া সম্ভব হবে না, তাদেরকে সংসদের উচ্চকক্ষে উচ্চকক্ষসহ ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এরপরও আসন সমঝোতা নিয়ে মিত্র দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবারের মধ্যে জোটের আসন বন্টনের বিষয়ে একটা ফয়সালা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেছেন, জোট তথা শরীক দলের নেতাদের সঙ্গে বিএনপির আলোচনা অব্যাহত আছে। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের টানাপোড়েন নেই। সহসাই আলোচনা সাপেক্ষে জোটের আসন বন্টন করা হবে।
বিএনপি এ পর্যন্ত মিত্র দলগুলোর জন্যে ঢাকা-১৭ (বিজেপির সভাপতি আন্দালিভ রহমান পার্থ), ঢাকা-১৩(এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬(গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি) এবং বগুড়া-২(নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না) আসনগুলো ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর বাইরে পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালীতে একটি করে আসনে সমমনা কয়েকটি দলের নেতারা বিএনপির সমর্থন পাবেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। এতদিন কুষ্টিয়া-২, মৌলভীবাজার-২, নড়াইল-২, কিশোরগঞ্জ-৫ ও যশোর-৫ আসনগুলো মিত্র দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার কথা শোনা গেলেও বিএনপি দ্বিতীয় দফায় এসব আসনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।
এর পর থেকেই মিত্র দলগুলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইছে। তবে এখন পর্যন্ত মিত্র দলের নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক কিংবা কথা বলতে পারেননি। এসব নিয়ে মিত্র দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও অবিশ্বাস কাজ করছে।


