লালমনিরহাট, শেরপুর ও কুড়িগ্রামে পৃথক মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবারের অভিযানে নয়টি মামলায় মোট ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১৪টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কয়েকজন যানচালককে সতর্ক করা হয়।
লালমনিরহাটে নির্মাণসামগ্রী রেখে বায়ুদূষণ করার দায়ে তিনটি মামলা দায়ের করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে সতর্ক করে দ্রুত নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে দূষণবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১ হাজার ৮৩৮টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়। যানবাহনের কালো ধোঁয়া, বায়ুদূষণকারী ইটভাটা, স্টিল মিল, শব্দদূষণ, ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য নিঃসরণ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সীসা বা ব্যাটারি রিসাইক্লিং, জলাশয় ভরাট, টায়ার পাইরোলাইসিস, চারকোল কারখানা ও খোলা অবস্থায় নির্মাণসামগ্রী রেখে বায়ুদূষণ প্রতিরোধে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময় ৪ হাজার ৬৪৭টি মামলায় ২৭ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সঙ্গে ৪৯৬টি ইটভাটার চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এবং আরও ২২২টি ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১৩৮টি ইটভাটার কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়।
এ ছাড়া ২৮টি অবৈধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সিলগালা করার পাশাপাশি ১৭০টি প্রতিষ্ঠানের সেবা ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। অভিযানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ ট্রাক সীসা ও ব্যাটারি গলানোর যন্ত্রপাতি জব্দ করে কারখানা বন্ধ করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


