যশোরে একটি ছাত্রাবাস থেকে ইব্রাহিম খলিল রিপন নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকালে শহরের পুলিশ লাইন কদমতলা এলাকার ‘স্বপ্নবিলাস’ ছাত্রাবাস থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিপন চট্টগ্রাম জেলার মৌসুমী আবাসিক এলাকার শফিউল্লাহর ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিচয় গোপন রেখে এই ছাত্রাবাসে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবারের পর থেকে রিপনের দেখা মেলেনি। ঘটনার দিন সকাল থেকে ডাকাডাকি করেও ঘরের দরজা না খোলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে রিপনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিপন প্রায় এক বছর আগে এখানে রুম ভাড়া নেওয়ার সময় নিজের নাম মুনসুর হোসেন বলে পরিচয় দেন এবং পাসপোর্ট অফিসে চাকরি করেন বলেও জানান। তবে রুম ভাড়া দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা অন্য কোনো কাগজপত্র নেওয়া হয়নি।
ছাত্রাবাসের ম্যানেজার মিলন হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে ডাকাডাকি করছি, কিন্তু সাড়া না পাওয়ায় পুলিশে খবর দিই।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের সহায়তায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মুমিনুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছে। শুরুতে নিহত ব্যক্তির নাম মনসুর হোসেন জানতে পারলেও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে জানা গেছে তার আসল নাম ইব্রাহিম খলিল রিপন। তিনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তবে কেন তিনি নাম-পরিচয় গোপন রেখে এখানে অবস্থান করছিলেন এবং কীভাবে মারা গেলেন তা এখন বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’
এদিকে, পরিচয় গোপন রেখে দীর্ঘদিন ছাত্রাবাসে অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া রুম ভাড়া দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


