অমর একুশে বইমেলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে রঙিন প্রচ্ছদ আর আকর্ষণীয় অলংকরণে সাজানো শিশুতোষ বইয়ের স্টলগুলো। নতুন গল্পের বই হাতে নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখছে শিশু-কিশোররা, আর পাশে দাঁড়িয়ে দাম দেখে হিসাব কষছেন তাদের অভিভাবকরা। শিশুদের সেই রঙিন বইয়ের আনন্দ অনেকটাই থমকে যাচ্ছে আকাশচুম্বী দাম শুনে।
বৃহস্পতিবার মেলার ১৫তম দিনে সচিত্র শিশুতোষ বইয়ের স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক পছন্দের বই হাতে নিয়ে দাম দেখে দ্বিধায় পড়ছেন। কেউ কেউ আবার বই দেখেই স্টল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কয়েক পৃষ্ঠার সাধারণ গল্পের বইয়ের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
মিরপুর থেকে স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছিলেন সাইফুল ইসলাম। ছেলের হাতে কয়েকটি গল্পের বই তুলে দিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘মেলা থেকে বাচ্চাদের জন্য কয়েকটা বই কিনব ভেবেছিলাম। কিন্তু একেকটা বইয়ের দাম এত বেশি যে শেষ পর্যন্ত দুই-তিনটার বেশি নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
বনানী থেকে আসা নাদিয়া পারভীনও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। মাত্র কয়েক পৃষ্ঠার বইয়ের দামই চাওয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিশুদের বইয়ের দাম এত বেশি থাকলে অভিভাবকরাও নিরুৎসাহিত হন। বইয়ের দাম সহনীয় করার পাশাপাশি মানও নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক বইয়ের কাগজ পাতলা বা গল্পের ধরন অপ্রাসঙ্গিক, এতে শিশুদের পড়ার আগ্রহ কমে যায়।’
দাম ছাড়াও শিশুতোষ বইয়ের বিষয়বস্তুর মৌলিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক পাঠক। পাঠক রুমানা আক্তারের মতে, অনেক বইয়ে গল্পের গভীরতা নেই। একই ধরনের পরিচিত কাহিনীর সামান্য পরিবর্তন করে বারবার বাজারে আনা হচ্ছে। এমনকি ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শিশুদের বয়স ও মানসিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্য দেখা যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে প্রকাশনা সংশ্লিষ্টদের মতে, বইয়ের দাম বাড়ার পেছনে মুদ্রণ ব্যয়ই বড় কারণ। নলেজ মিডিয়া পাবলিকেশনের বিক্রয়কর্মী ইমরান হাসান জানান, ছোটদের বই সাধারণত মোটা ও রঙিন কাগজে ছাপাতে হয়, যাতে সহজে ছিঁড়ে না যায়। এ কারণেই উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি।
ছোটদের সময় প্রকাশনীর শাহিন আহমেদ বলেন, তাদের বইয়ের ছবিগুলো হাতে আঁকা হওয়ায় খরচ কিছুটা বেশি পড়ে। পাশাপাশি বাজারে পাইরেটেড বইয়ের কারণে মূল বইয়ের মান ও বিক্রিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ছিল অমর একুশে বইমেলার ১৫তম দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন না হওয়ায় মেলায় পাঠক সমাগম অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এদিন নতুন বই জমা পড়েছে ৮২টি। মেলার সময়সূচি ছিল দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: মুস্তাফা জামান আব্বাসী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শারমিনী আব্বাসীর লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা মোকারম হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন আশরাফুজ্জামান বাবু। সভাপতিত্ব করেন ওয়াকিল আহমদ।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন আতাহার খান, ফজলুল হক তুহিন এবং জামশেদ ওয়াজেদ।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন মেলায় থাকবে শিশুপ্রহর। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ফিরোজ আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেবেন সুমন রহমান। সভাপতিত্ব করবেন আনু মুহাম্মদ। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।


