দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আর সিলেট টাইটান্সের সামনে ছিল সহজ সমীকরণ। ম্যাচ জিতলেই মিলবে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালের টিকিট। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিনুরা ফার্নান্দোর দারুণ বোলিং ১৬৫ রানের পূঁজি নিয়ে সিলেটকে ১৫৩ রানে আটকে দিয়ে ১২ রানের জয়ে বিপিএলের ফাইনালে উঠল রাজশাহী।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হেরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেটের মুখোমুখি হয় রাজশাহী। ওদিকে এলিমিনেটরে রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নাম সিলেট। প্লে অফ শেষে আগামী ২৩ জানুয়ারি ফাইনালে আবারো দেখা হচ্ছে রাজশাহী-চট্টগ্রামের।
রান তাড়ায় নেমে টানা দুই ওভারে বিনুরার জোড়া আঘাতে ৭ রানেই নেই সিলেট হারায় দুই উইকেট। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনের পাল্টা আক্রমণে পাওয়ারপ্লেতে সিলেট তোলে ৩৭ রান। যদিও ইনিংসের ১১ তম ওভারে তানজিম সাকিবের দারুণ থ্রোতে রান আউট হন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
অবশ্য বিপদ বাড়ে ২৮ রানে জীবন পেয়ে ব্যক্তিগত ৩৭ রান করা স্যাম বিলিংসের বিদায়ে। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে উইকেট দিয়ে এসেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন ফারহানের হাতে। এর আগের ওভারে রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেলের দারুণ এক টার্নিং ডেলিভারিতে বোল্ড হন মঈন আলী।
শেষ পাঁচ ওভারে সিলেটের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৭ রান। ১৭তম ওভারে আফিফ হোসেনকে বিদায় করেন তানজিম। পরের ওভারে মিরাজের উইকেট তুলে নেন লঙ্কান বাঁহাতি পেসার বিনুরা। ম্যাচ থেকে কার্যত সেখানেই ছিটকে পড়ে সিলেট। আগের ম্যাচের উইনিং হিরো ক্রিস ওকস উইকেটে থাকলেও মেলেনি শেষ ওভারে ২৪ রানের সমীকরণ। চার ওভার বল করে ১৯ রানে চার উইকেট নেন বিনুরা।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সাহিবজাদা ফারহান-তানজিদ তামিমের ৪২ রানের ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু পায় রাজশাহী। এরপর রীতিমতো ধস নামে তাদের ব্যাটিং অর্ডারে। বিনা উইকেট ৪২ থেকে ৮০ রানে যেতে হারায় প্রথম পাঁচ উইকেট। সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ বলে ৭৭ রান যোগ করেন বিপিএল অভিষিক্ত কেইন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশাম। এক প্রান্তে উইলিয়ামসন রয়েসয়ে খেলে ৪৫* রানের ইনিংস খেললেও নিশাম খেলেন হাত খুলে। ২৬ বলে ৪৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
দলের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ৩২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন তানজিদ। চারটি ছক্কার সাথে মেরেছেন একটি চারও। তার আগে সালমান ইরশাদের বলে আফিফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ফারহান। ডানহাতি এই পাকিস্তানি ওপেনার ২১ বলে করেছেন ২৪ রান।
অবশ্য টপ অর্ডারে ভালো শুরু পেলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় মাঝে আটকে যায় রাজশাহীর রানের চাকা। মুশফিকুর রহিম, মেহেরব ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। শান্ত ফিরেছেন ৭ রান করে। সালমান ইরশাদের করা শেষ ওভারে রাজশাহী হারিয়েছে তিন উইকেট। সেখানে শেষ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার উইলিয়ামসন স্ট্রাইক পেলে রান হয়তো পেরিয়ে যেতে পারত ১৭০ রানের কোটাও। তিন উইকেট নেন সালমান ইরশাদ, দুটি করে উইকেট নেন নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ।


