মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে দীপালি বেগম (৩৪) নামে ফরিদপুরের এক নারী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে ওই দেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওইদিন সন্ধ্যায় ওই নারী লেবাননের বৈরুত এলাকায় যে ভবনে বসবাস করতেন সেই ভবনে হামলা হয়। হামলায় আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দিপালি বেগম ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মুবার মেয়ে। তিনি অবিবাহিত এবং দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। লেবাননে তিনি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের ছোট বোন লাইজু বেগম বলেন, ‘গত দুই বছর আগে জীবীকার তাগিদে তার বোন লেবাননে যান। গত বুধবার সকালে তার সঙ্গে কথা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এক মাস আগে লেবাননের চুড় এলাকা থেকে বৈরুত এলাকায় যায় দিপালি।’
‘ওই সময় তিনি জানিয়েছিল চুড় এলাকায় যুদ্ধের দামামা বেশি তাই সেখান থেকে তার মালিকের পরিবারসহ বৈরুত এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। সেখানে দিপালিসহ তার মালিকের পরিবারের সদস্যসহ সাতজন নিহত হন। তারা যে ভবনে অবস্থান করছিল সেই ভবনে বোমা হামলা হয়। তার মরদেহ ওই দেশের পুলিশের জিম্মায় রয়েছে।’
তিনি জানান, তার বোন গত বুধবার মারা গেলেও শুক্রবার এ খবরটি জানতে পারেন। চুড় এলাকার যে দোকান থেকে দিপালী দেশে টাকা পাঠাতেন সেই দোকানের মালিক ফোনে তাদের এ খবর দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, ‘দিপালির বাড়ি মুন্সিরচর গ্রামের নওয়াব আলীর দোকানের সামনে। পরিবারটি খুব গরিব। পরিবারের অভাব ঘোচাতে মেয়েটি বিদেশে গিয়েছিলেন। কী নির্মম মৃত্যু হলো তার। আমাদের চাওয়া একটাই, “যত দ্রুত সম্ভব তার মরদেহ যেন দেশে আনা হয়”।’
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। আমরা আমাদের কুটনৈতিক চ্যানেলে মরদেহ দেশের আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’


