চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম (৪৫) চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেছেন।
বুধবার ভোরে কারাগারের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে মঙ্গলবার নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুরুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের এবাস হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার ভোরে বন্দিদের নাম-ঠিকানা নিবন্ধনের সময় তিনি বুকে ব্যথার কথা জানিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল হোসাইন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নুরুল আলমকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে ফৌজদারি মামলায় কারাগারে আনা হয়েছিল। বুধবার সকালে যখন কারাগারে বন্দিদের নাম-ঠিকানা নিবন্ধনের কাজ চলছিল, তখন তিনি বুকে ব্যথার কথা জানান। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালে পাঠাই। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক তাকে ‘ব্রট ডেড’ (হাসপাতালে আনার আগেই মৃত) হিসেবে পেয়েছেন জানিয়ে মৃত্যুর সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
নুরুল আলমের গ্রেপ্তারের বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে আমাদের থানায় হস্তান্তর করে। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা ছিল। আমরা আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে তাকে আদালতে চালান করে দিই। অর্থাৎ আমাদের হেফাজতে সে মাত্র আড়াই ঘণ্টার মতো ছিল।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘জেল সুপার আমাকে জানিয়েছেন যে সকালে বন্দিদের তথ্য নিবন্ধনের সময় সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এটি পুলিশি হেফাজতে কোনো ঘটনা নয়, তিনি কারাগারেই মারা গেছেন।’
কারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে কারা সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নুরুল আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।


