কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ফের অপহরণের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি জেলেরা। শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় তিনটি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)।
অপহৃত জেলেরা হলেন— মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তারা সবাই টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়ার বাসিন্দা।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘গত দুইদিনে শাহপরীর দ্বীপে সকালে মাছ ধরার সময় তিনটি নৌকাসহ ১৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তাদের কারণে নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায়ই জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে ও নৌকার মালিকদের জীবন নিয়ে নিশ্চয়তার সংশয় আর কাটবে না।’
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মাছ ধরতে যায়। সকাল ৭টার দিকে মাছ ধরার সময় স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে তিনটি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। পরে বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এতে জেলে ও নৌকার মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘নৌকাসহ কিছু জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা স্থানীয়ভাবে জেনেছি। তবে এখনো জেলে পরিবার বা নৌকার মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জেলেদের ফেরত আনতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিজিবি ও স্থানীয় জেলে সমিতির সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে অন্তত চার শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে ফিরে আসেন। বিজিবির প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলেসহ ২৭টি ট্রলার ফেরত আনা হলেও এখনো ৩২টি ট্রলার ও ১৭২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটক রয়েছেন।


