সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে আরাগচি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি বিশেষ বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চলছে।
এই আলোচনার মূল ফোকাস ছিল বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এর আগে আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব ঘোচাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
পুতিনও এই বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে।
ইরান ও রাশিয়া দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। অতীতে ইরানের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে রাশিয়া ও চীন সবসময় তাদের ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তেহরানকে সুরক্ষা দিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করেছে বলে বহুল আলোচিত। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। তবে বিশ্ব রাজনীতিতে এটি একটি বড় প্রভাব ফেলেছে।
রাশিয়া এখন ইরানের সামরিক বা কৌশলগত প্রযুক্তিতে সহায়তা করছে কি না, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট পাওয়া না গেলেও কৌশলগত এই অংশীদারত্ব ইরানকে আন্তর্জাতিক চাপে টিকে থাকতে বড় শক্তি জোগাচ্ছে।
বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং এই কঠিন সময়ে রাশিয়াকে তারা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে দেখছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের এই বৈঠকটি প্রমাণ করে, কেবল সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও মস্কো এখন তেহরানের জন্য প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো ধরনের দরাদরি বা সমঝোতা করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। সূত্র: আল-জাজিরা


