চট্টগ্রামে ঝরে পড়া ৪৬ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান

চট্টগ্রামে ঝরে পড়া ৪৬ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামে প্রথাগত নিয়মের বাইরে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ছয় মাসের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর সনদপত্রের পাশাপাশি ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নিয়োগপত্র। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়।

বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম–কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাই না, প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন বদলানোর পাশাপাশি একটি পরিবার ও সমাজ বদলে যায়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ার মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে এই তরুণরাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ৪টি ট্রেডে মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। চূড়ান্ত মূল্যায়নে ৭৩ জন উত্তীর্ণ হন, যাদের মধ্যে ৪৬ জনের কর্মসংস্থান প্রথম দিনই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন

ট্রেডভিত্তিক চাকরির বিবরণে জানা যায়, টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জনের সবাইকে গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শুরুতে তাদের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা হলেও তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী হলে বেতন হবে ১০ হাজার টাকা। রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডের ১৭ জনকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টাকা ভথায় শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডের ৯ জনকে হাটহাজারীর বিভিন্ন সার্ভিসিং সেন্টারে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের কেবল শ্রমশক্তি নয়, ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রথম বেতনের অঙ্ক বড় বিষয় নয়, দক্ষতা অর্জনই মূল লক্ষ্য। দক্ষতা বাড়লে ভবিষ্যতে আয় ও সুযোগ দুই-ই বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রশিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad