আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টির তাৎপর্যটা একটু আলাদাই ছিল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ ম্যাচ, একইসাথে ১-১- সমতায় থাকা দুই দলের জন্য ছিল সিরিজের অঘোষিত ফাইনাল। যেখানে জয় দিয়েই শেষ করল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার চট্টগ্রামে আইরিশদের প্রথমে ১১৭ রানে আটকে দিয়ে ঝড়ো ফিফটিতে ৮ উইকেটে দলকে জেতালেন তানজিদ তামিম। তার সাথে পারভেজ ইমনের ৩৩* রানের ইনিংসে ৩৮ বল হাতে রেখে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত হল বাংলাদেশের।
১১৮ রান তাড়া করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশের। সাইফ হাসান-লিটন দাস ফিরলেও তৃতীয় উইকেটে ৫০ বলে ৭৩* রানের ম্যাচ জেতানো জুটি গড়েন তানজিদ ও ইমন। এর আগে তাদের কাজটা সহজ করে রেখেছিলেন রিশাদ হোসেন-মোস্তাফিজুর রহমানরা। তাদের দারুণ বোলিংয়ে ১০০ রানের আগেই প্রথম ছয় উইকেট হারানো আইরিশরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
ওপেনিংয়ে তানজিদের সাথে সাইফ হাসানের নতুন জুটির ৩৮ রানে শুরু। পাওয়ারপ্লের সুবিধা দুজন কাজে লাগিয়েছেন বেশ ভালোভাবেই। শট খেলেছেন উইকেটের চারপাশে, বাউন্ডারিতে ফিল্ডার কম থাকায় লফটেড শটও খেলেছেন বেশ নির্ভয়ে। যদিও ক্রেইগ ইয়াংকে তুলে মারতে গিয়েই মিড অনের বাইরে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন সাইফ। ১৪ বলে ১৯ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
আগের ম্যাচে ফিফটি করা লিটন, বাউন্ডারি মেরে শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। পার্ট টাইমার হ্যারি টেক্টরের বলে পুল করে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। যদিও পাওয়ারপ্লের মধ্যে প্রথম দুই ব্যাটারকে হারানোর চাপ একেবারেই পড়তে দেননি তানজিদ। ইনিংসের ১১-তম ওভারে গ্যারেথ ডিলানিকে এক চার ও দুই ছক্কা মেরে একাই ১৭ রান তুলেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ৩৫ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের ১১-তম ফিফটি। তিন ছক্কা ও চারটি চারে ৩৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে।
আগের দুই ম্যাচের মতো ওপেনিংয়ে ভালো শুরু পেলেও মিডল অর্ডারে খেই হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং-টিম টেক্টরের ৩৮ রানের উড়ন্ত জুটি ভাঙে শরীফুলের দারুন এক ইনসুইংগারে। আগের বলে ছক্কা মারা টিম বোল্ড হয়েছেন শরীফুলের বলের সুইংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে। তিনে নেমে হ্যারি টেক্টর বোল্ড হয়েছেন বেশ অদ্ভুত স্টাইলে। মোস্তাফিজের গুড লেন্থ বলে ডিফেন্সিভ শট খেলে চলে গেছিলেন সামনে। বল ততক্ষণে আন্ডার এজ হয়ে যাচ্ছিল স্টাম্পের দিকে। বলটা পা দিয়ে সরিয়ে দিতে চেয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যান টিম। এরপর বল লাগে স্টাম্পে।
এরপর শুরু হয়ে রিশাদ শো। কার্টিস ক্যাম্ফারের স্টাম্প উড়িয়েছেন দারুণ এক গুগলিতে। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে রিশাদের গুগলিতেই আউট হয়েছেন আইরিশদের সর্বোচ্চ স্কোরার স্টার্লিং। পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ২৭ বলে ৩৮ রান করেন আইরিশ অধিনায়ক। ৪ ওভার করে ২১ রানে ৩ উইকেট নেয়া রিশাদের তৃতীয় শিকার গ্যারেথ ডিলানি।
৯৩ রানে প্রথম ছয় উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ডের বিপদ আরো বাড়ে মোস্তাফিজের জোড়া আঘাতে। ১৮-তম ওভারে এই বাঁহাতি পেসার ফেরান মার্ক অ্যাডেয়ার ও ম্যাথু হামফ্রিসকে। এই দুজনই ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ তামিমের হাতে। এর আগে রিশাদের বলে ডিলানি ও শরীফুলের বলে ডকরেলের ক্যাচ ধরেছেন তানজিদ। পুরো ইনিংসে একাই পাঁচটি ক্যাচ ধরেছেন তিনি। যা এক ম্যাচে যৌথ সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ তো বটেই, আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এক ম্যাচে পাঁচ ক্যাচ ধরার ঘটনা এবারই প্রথম।
৩ ওভার বল করে ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। তবে সাইফউদ্দিনের বোলিং ছিল খরুচে। কীভাবে বল করতে চেয়েছেন সেটাও পরিস্কার ছিল না। পাওয়ারপ্লেতে লিটন তাকে বল করিয়েছেন, সেখানেই রান দিয়েছেন। নতুন বলে করেছেন স্লোয়ার, যেখানে শরীফুল-মোস্তাফিজরা চেষ্টা করেছেন একটু বাড়তি সুইং আদায় করতে জোরের ওপর বল করে। সাইফউদ্দিনের হাত থেকে টেনিস বল বাউন্সারও ছুটে গেছে বেশ ক’বার। সেটা কাজে লাগিয়েই দুর্দান্ত এক পুলে ছক্কা মারেন স্টার্লিং। সাইফউদ্দিন প্রথম দুই ওভারে ১৯ রান দেয়াতে অধিনায়ক লিটন বাধ্য হয়েছেন মিডল ওভারে সাইফ হাসানকে টানতে। সেই দুই ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়েছেন এই পার্ট টাইমার।


