দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন অভিনেতা তিনু করিম। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন কিছুদিন আগে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরিশালে বাড়ি গিয়েছিলেন। সেখানেই বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মারা গেছেন তিনি।
টাইমস অব বাংলাদেশকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। তিনি বলেন, ‘তিনু করিম তো অনেকটাই সুস্থ হয়ে গিয়েছিল। গালি গলায় কিছুটা সমস্যা ছিল, যেহেতু দীর্ঘদিন গলায় নল দিয়ে খাবার দিয়েছিল তাকে। বরিশালে গিয়েছিলো ভোট দিবে বলে। কিন্তু ভোট দেওয়ার আগেই আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নিজ বাড়িতে হুট করে অজ্ঞান হয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।’
অপু জানান, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম্মা তার নামাজে জানাজা বরিশালে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি স্ত্রী হুমাররা নওশিন ও ১১ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
স্ত্রী হুমায়রা নওশিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তিনি একদম সুস্থ ছিলেন। তিন দিন আগেই আমরা গ্রামের বাড়ি বরিশালে এলাম। সব ঠিক ছিল; দুপুরের দিকে শরীর খারাপ লাগছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছে।’
আইসিইউ থেকে লাইফ সাপোর্ট, সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা, সেখান থেকেই ফিরে এসেছিলেন ছোট পর্দার অভিনেতা তিনু করিম। ৪০ দিন হাসপাতালে কাটানোর পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাসায় ফিরেছিলেন। কিন্তু সুস্থতার মধ্যেই হার্ট অ্যাটাক।
গত বছরের ৮ নভেম্বর বরিশালে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকলে ২৪ নভেম্বর ঢাকায় আনা হয়। এরপর ঢাকার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শরীরের অবস্থা একটু ভালো হলে তাকে কেবিনে দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর রক্তচাপ ও সুগার লেভেল কমে জ্ঞান হারান অভিনেতা। এরপর প্রথমে আইসিইউ, পরে ৩ ডিসেম্বর বিকেলে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে।
২৩ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২৬ ডিসেম্বর তিনু করিমকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখান থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর তাকে কেবিনে দেওয়া হয়। সেখান থেকে বাসায় ফেরেন অভিনেতা।
দুই যুগ ধরে অভিনয়ে ছিলেন তিনু করিম। ২০০১ সালে ‘সাক্ষর’ নাটক দিয়ে তার টিভি নাটকে অভিষেক। আর ২০১০ সালে ‘অপেক্ষা’ সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় নাম লেখান। এরপর ‘রাত জাগা ফুল’, ‘আলতা বানু’সহ অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। একটি মুঠোফোন অপারেটরের বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি পরিচিতি পান।


