দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প খরচে পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে ড্রিমওয়াটার ফিল্টার। কেবল পানি পরিশোধনই করছে না, এই ফিল্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা আর্থিকভাবেও সাবলম্বী হচ্ছেন।
কুড়িগ্রামে সাফল্যের পর রংপুর ও নীলফামারিতেও সম্প্রসারিত হয়েছে ‘ড্রিমওয়াটার: এমপাওয়ারিং উইমেন ইন কনভার্টিং ফ্লাড ডিজাসটার ইনটু ইকনোমিক অপরচুনিটি’ প্রকল্পটি। এতে অর্থায়ন করছে ইউএনডিপি এএফসিআইএ এবং বাস্তবায়ন করছে ফুটস্টেপস বাংলাদেশ।
বাজার সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলো অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীল এবং স্বল্প খরচে নির্ভরযোগ্য ফিল্টারেশনের চাহিদা রয়েছে।
কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে ড্রিমওয়াটার প্রমাণ করেছে যে সহজ, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ফিল্টারেশন সেবা স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নারীদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এর ভিত্তিতে ২৫ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা ড্রিমওয়াটার পোর্টেবল ফিল্টার ব্যবহার করে আগস্ট মাসে ১ হাজার ৫০৯ থেকে ৫ হাজার ১৭৬ লিটার পানি বিশুদ্ধ করেছেন।
এর মাধ্যমে প্রতি লিটার বিশুদ্ধ পানি এক থেকে তিন টাকা দরে বিক্রি করে প্রতিজন উদ্যোক্তা ২ হাজার ২৭ থেকে ৮ হাজার ৩৯৭ টাকা আয় করেছেন। তাদের সাফল্যের পর আরও ৭০ জন নারী এজেন্ট হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং ১৮৯টিরও বেশি পরিবার সেবায় যুক্ত হতে চেয়েছে বলে জানিয়েছে ফুটস্টেপস বাংলাদেশ।
সংস্থাটি বলছে, আগামীতে উদ্যোক্তাদের মেন্টরশিপ ও ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মডেলটি সম্প্রসারণ করা হবে।
সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, ড্রিমওয়াটার মডেলটি প্রমাণ করবে, গবেষণা, উদ্ভাবন ও নারী নেতৃত্ব জলবায়ু দুর্যোগকে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে পারে।


